ঘুষ দিলেও নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি এমপি পাপুলের

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০ | আপডেট: ৯:৩৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

মানবপাচার, অবৈধ ভিসা বিক্রি, মানি লন্ডারিং ও ঘুষ লেনদেনের যে অভিযোগ উঠেছে তাতে নিজেকে ‘পরিচ্ছন্ন’ দাবি করেছেন কুয়েত আটক বাংলাদেশি সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল। উল্টো দেশটির সরকারি কর্মকর্তাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, আমি এ ব্যাপারে পরিচ্ছন্ন…তবে কিছু সরকারি কর্মকর্তা পরিচ্ছন্ন না।

রাষ্ট্রপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে এভাবেই আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন বাংলাদেশি এই সংসদ সদস্য। আরব টাইমসের অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিস মনে করে, এই অবৈধ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সবার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য মামলাটি ফৌজদারি আদালতে প্রেরণ করা উচিত।

কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে পাপুল পাবলিক প্রসিকিউটরকে বলেন, ‘আমি নির্দোষ…কিন্তু কর্মকর্তারা নির্দোষ নয়।’

পাপুল জানান, তাঁর কোম্পানিতে নয় হাজার মানুষ কাজ করে এবং কুয়েতে কাজ করার জন্য একটি বৈধ আদেশ আছে। তাঁর দাবি, তিনি যে কাজ করেছেন সেটির সফলতা নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করতে পারবে না। কিন্তু কুয়েতের কিছু কর্মকর্তা তাঁর কাজ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাদের ঠেকানোর জন্যই তিনি ঘুষ দিয়েছেন।

পাপুল আরো জানান, তাঁর কোম্পানিতে যে ধরনের ইকুইপমেন্ট আছে সেটি আর কোনো কোম্পানির কাছে নেই এবং তিনি গুণগতমান সম্পন্ন সেবা প্রদান করেছেন, কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এখানকার কিছু কর্মকর্তা।

তবে প্রসিকিউটর অফিসের একটি সূত্র জানায়, এর সঙ্গে অনেক ব্যক্তি জড়িত। এদের সবার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য অনেক সময়ের প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত,গত ৭ জুন মানবপাচার,ভিসা জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে সংসদ সদস্য পাপুলকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে উঠে আসে কীভাবে বাংলাদেশের এই সাংসদ মানুষকে প্রতারিত করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এবং এই কাজে তাঁকে কুয়েতের প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তারাও সহায়তা করেছেন ঘুষ, উপহার ও অন্যান্য সুযোগের বিনিময়ে।

এখন পর্যন্ত তদন্তে বের হয়ে এসেছে পাপুল প্রতি বছর বিভিন্ন ঘুষ, উপহার ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা নেট লাভ করতেন। এ ছাড়া পাপুল এবং তাঁর কোম্পানির প্রায় ৫০ লাখ কুয়েতি দিনার (প্রায় ১৪০ কোটি টাকা) ব্যাংকে জমাকৃত অর্থ ফ্রিজ করার জন্য ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অনুরোধ করেছেন কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউটর।

এদিকে বিদেশের মাটিতে একজন সংসদ সদস্য আটকের ঘটনা দেশের জন্য অত্যন্ত অসম্মানজনক বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।