চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বেড়িবাঁধ ভেঙে ৩ গ্রাম প্লাবিত

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ | আপডেট: ৪:২১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের সাগর উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে জোয়ারের পানি। এতে ওই ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

সাগরের লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্ভোগের পড়েছে গরু ও পোল্ট্রি ফার্মের মালিকরা। ফলে উপকূলীয় ওই এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত নানা আশঙ্কার মধ্যদিয়ে দিন পার করছে।

জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলা সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোড়ামরা (পাক্কা মসজিদ) এলাকায় সব চাইতে বেশি বেড়িবাঁধ ভেঙেছে। মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) জোয়ারের পানিতে ভেঙে গেছে ২০০ মিটারের বেশি বেড়িবাঁধ। এছাড়া আরও ১০০ মিটারের বেশি বেড়িবাঁধ বেহাল অবস্থায় আছে। দ্রুত সময়ে সংষ্কার না হলে এ ১০০ মিটার বাঁধও ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় চক্রবাক ক্লাবের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সাজ্জাদ জানান, ভাঙ্গনের ফলে ফলে প্রায় ৪০০ একর জমির ফসল, জেলে সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরসহ এলাকার বেশ কিছু অংশ প্রতিদিন জোয়ার ভাটার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। এ অবস্থা থাকলে ১৯৯১ সালের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হলে এলাকার জন্য বিরাট ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লায়ন মইনুল হাসনাত রাহাত বলেন, বেড়িবাঁধটি ভেঙে যাওয়ার কারণে এলাকাবাসীর চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জোয়ার ভাটার সময় দেখে ঘর থেকে বের হতে হয় তাদের। তিনি বেড়িবাঁধটি দ্রুত সংষ্কারের দাবি জানান।

সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির আহমেদ বলেন, বেড়িবাঁধটি রক্ষণাবেক্ষণ না করা ও জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ডগুলোতে বড় বড় স্ক্র্যাপ জাহাজ বিচিং করার কারণে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

ফলে সম্প্রতি প্রবল জোয়ারে বেড়িবাঁধের ২০০ মিটারের অধিক ভেঙে গিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে তিনটি গ্রাম পুরো প্লাবিত হয়। প্রতিদিন জোয়ারের সময় মানুষ এলাকায় চলাফেরা করতে পারেন না। এছাড়া লবনাক্ত পানির কারণে কৃষি জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

ড়িবাঁধটি সংষ্কার করা না হলে এ এলাকায় কয়েশ একর কৃষি জমি অনাবাদি থাকবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সীতাকুণ্ডের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাব ডিবিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল আজিম বলেন, আমরা দ্রুত বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ মেরামতের জন্য কাজ শুরু করব।