চট্টগ্রামে ৬ মাসে বিদেশ গেছেন ৮ জন!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০ | আপডেট: ১:৫৩:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২০

করোনায় চট্টগ্রাম থেকে বিদেশে জনশক্তি রফতানি কমেছে। আগে যেখানে মাসে ৩ থেকে ৪ হাজার কর্মী বিদেশ যেতেন, সেখানে করোনার কারণে গত ৬ মাসে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশ গিয়েছেন মাত্র ৮ জন। করোনা পরিস্থিতির শুরুতে অর্থাৎ চলতি বছরের মার্চ মাসে চট্টগ্রাম থেকে বিদেশ গিয়েছেন ৩ হাজার ৯৩ জন।

জনশক্তি রফতানির এই চিত্র খুব শিগগিরই স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘যতদিন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না, ততদিন জনশক্তি রফতানি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। একমাত্র ভ্যাকসিন বের হলেই তখন জনশক্তি রফতানি স্বাভাবিক হতে পারে।’
দেশের এক কোটিরও বেশি প্রবাসীর অধিকাংশই চট্টগ্রামের। অনেক আগে থেকে এই অঞ্চলের মানুষ ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের নানা দেশে যাতায়াত করছেন।

৮০’র দশকে হাজার হাজার মানুষ কাজের জন্য যান মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে। বিশেষ করে সৌদি আরব, ওমান, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে। সেখানে এমন কোনও দেশ নেই যেখানে চট্টগ্রামের মানুষ নেই।

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম থেকে প্রতি মাসে গড়ে ১৫ হাজার মানুষ নতুন ভিসায় বিদেশ যান। কিন্তু গত ছয় মাসে চট্টগ্রাম থেকে ১০ জন মানুষও চাকরি নিয়ে বিশ্বের কোনও দেশে যাননি। অন্যদিকে দেশে এসে আটকা পড়েছেন অন্তত এক লাখ মানুষ। এদের কেউই কাজে ফিরতে পারছেন না।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত ১০ মাসে মোট ৯ হাজার ৮১৪ জন নতুন কর্মী বিদেশ গিয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসেই বিদেশ গিয়েছেন ৯ হাজার ৮০৬ জন।
এপ্রিল থেকে অক্টোবর এই ছয় মাসে বিদেশ গিয়েছেন মাত্র ৮ জন। এর মধ্যে এপ্রিল মাসে কোনও নতুন কর্মী বিদেশ যাননি। মে, জুন মাসেও একই অবস্থা।

জুলাই মাসে গিয়েছেন একজন, আগস্ট মাসে ৩ জন, সেপ্টেম্বর মাসে ৪ জন এবং ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই মাসে কোনও কর্মী বিদেশ যাননি।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, ‘সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর বৈঠক করছেন।

যাতে আমাদের কর্মীরা সুন্দরভাবে, শান্তিতে বিদেশ যেতে পারে। সৌদি আরবের ক্ষেত্রেই দেখুন, সেখানে আগে চার্টার্ড বিমান ছিল; সেখানে ফ্লাইট বাড়িয়েছে।

সরকার বিদেশে কর্মী যাওয়ার ক্ষেত্রে দেশে-বিদেশে সম্পন্ন করা প্রক্রিয়াগুলো সহজ করে দিচ্ছে, যাতে তারা বিদেশে যেতে পারে। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে কোথাও কোথাও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জোর করে তো বিদেশে কর্মী পাঠানো যাবে না। করোনার কারণে বিভিন্ন দেশ অন্যদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছেন। তাই কর্মী পাঠানো যাচ্ছে না।

তবে সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই আবার বিদেশে কর্মী পাঠানো স্বাভাবিক হবে। এর জন্য আমরাও আমাদের পর্যায় থেকে কাজ করছি।

বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্য জেলা পর্যায়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। সকল সংস্থার সমন্বয়ে বিমানবন্দরে মিটিং ডেকেছি। উপজেলা পর্যায়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। অভিবাসন সম্পর্কিত সকল সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’