চট্টগ্রাম জেলা ও নগরে রাত আটটার পরে সব দোকানপাট বন্ধ : ফটিকছড়ি উপজেলা লকডাউন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১ | আপডেট: ৮:৩১:অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১

মো এমরান হোসেন, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এখানে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। মহানগরের পাশাপাশি জেলার ফটিকছড়ি, মিরসরাই, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, সীতাকুন্ড, বোয়ালখালী ও আনোয়ারাসহ বিভিন্ন উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত দু’সপ্তাহে ফকিছড়িতে সংক্রমণের হার ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ। মাস্ক পরিধানসহ শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে।

এ আশংকায় আপাততঃ ২৩ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ফটিকছড়িতে লকডাউন বলবৎ থাকবে। লকডাউন চলাকালে সার্বক্ষণিক ওষুধের দোকান, সকাল ৭টা থেকে ১১টা ও বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাঁচাবাজার ছাড়া হোটেল-রেঁস্তোরা ও কমিউিনিটি সেন্টারসহ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও জনসমাগম ঘটে এমন অনুষ্ঠানসমূহ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত করা যাবেনা। ২২ জুন ২০২১ ইংরেজি মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় করোনা প্রতিরোধ বিষয়ে তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন এলাকায় আগামীকাল ২৩ জুন বুধবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ওষুধের দোকান ব্যতীত হোটেল-রেঁস্তোরাসহ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাত ৮টার পর বন্ধ থাকবে।হোটেল-রেঁস্তোরায় ৫০ শতাংশের বেশি কাস্টমারকে বসিয়ে খাবার পরিবেশন করা যাবেনা। এ আইন অমান্য করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সর্বোচ্চ জরিমানা করা হবে। এর পরেও নির্দেশনা অমান্য করলে ব্যবসা প্রতিষ্টান সীলগালা করে দেয়া হবে। মাস্ক পরিধানসহ শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে জেলা প্রশাসনের ১২টি মোবাইল কোর্ট টিম মাঠে থাকবে। মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। মসজিদে প্রবেশের সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিতে হবে। করোনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা করা হবে।

কমিউনিটি সেন্টার প্রসঙ্গে ডিসি বলেন, নির্দেশনা অমান্য করে সিটি করপোরেশন এলাকা ও উপজেলার বিভিন্নস্থানে মূল সড়ক থেকে একটু দূরের কিছু কিছু কমিউনিটি সেন্টার বা ক্লাবে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে বিয়ে, বৌভাত ও অন্যান্য সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অপরাধে বেশ কয়েকটি কমিউনিটি সেন্টারকে জরিমানাসহ ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। সরকার কর্তৃক পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত জনসমাগম এড়াতে কমিউনিটি সেন্টার, কমিউনিটি হলগুলো বন্ধ থাকবে। পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানও বন্ধ থাকবে। নির্দেশ অমান্য করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। করোনার ভয়াবহতা থেকে রক্ষাকল্পে জনগণের মধ্যে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরগণেরা যাতে এগিয়ে আসে সে লক্ষ্যে চসিক মেয়রকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। করোনার সংক্রমণ রোধে ২৩ জুন বুধবার থেকে কেউ যাতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যেতে না পারে সে জন্য সৈকতে যাওয়ার সকল প্রবেশ পথে ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয়ার ব্যবস্থা নিতে সিএমপিকে অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক।

যানবাহনে ধারণ ক্ষমতার অধেক যাত্রী পরিবহন বিষয়ে মমিনুর রহমান বলেন, যে সকল গণপরিবহণ এখানে চলাচল করে সেগুলো ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে কি না, যাত্রীরা মাস্ক পরিধান ও স¦াস্থ্যবিধি মানছে কি না তা বিআরটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিশ্চিত করবেন। করোনার সংক্রমণ রোধে প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে এগিয়ে আসলে করোনা পরিস্থিতি পূর্বের ন্যায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ঈদের সময় মার্কেট, বিপনি বিতান ও শপিং মল সমূহ খোলা রাখার কারণে চট্টগ্রামে কোভিড পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। মহানগরীর পাশাপাশি জেলার ফটিকছড়ি, মিরসরাই, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, সীতাকুন্ড, বোয়ালখালীসহ বিভিন্ন উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। করোনা রোগীদের সুচিকিৎসায় আন্দরকিল্লা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল-২ হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৫০টি শয্যা প্রস্তুত রয়েছে। নির্দিষ্ট বেসরকারী ক্লিনিক-হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় আইসিইউ বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আমরা সকলে মাস্ক পরিধানসহ শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সচেতন হলে করোনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ৯৯০ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষায় নগরী ও জেলায় ২২৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। সনাক্তের হার ২২ দশমিক ৮২ শতাংশ। মহানগরে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। গত ১৪ দিনে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৬ হাজার ৫৭৩ জনের, তন্মধ্যে আক্রান্ত ১ হাজার ১০৬ জন। চট্টগ্রামে ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল থেকে অধ্যাবদি ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। অদ্যবধি আক্রান্ত হয়েছে মোট ৫৬ হাজার ৩৯৭ জন। তন্মধ্যে মহানগরে ৪৪ হাজার ৩৫৯ জন, অদ্যাবধি শতকরা হার ৭৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ ও উপজেলা পর্যায়ে ১২ হাজার ৩৮ জন, অদ্যাবধি শতকরা হার ২১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। করোনায় অদাবধি মৃত্যু হয়েছে ৬৬২ জনের, তন্মধ্যে মহানগরে ৪৬৩ জন, অদ্যবধি শতকরা হার ৬৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ ও উপজেলা পর্যায়ে ১৯৯ জন, অদ্যবধি শতকরা হার ৩০ দশমিক ০৭ শতাংশ।

চট্ট্রগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মোঃ বদিউল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম জাকারিয়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ সুমনী আক্তার, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. উ খ্যে উইন, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ আবদুল্লাহ আল মাসুম, সিএমপি’র এডিসি (সিটিএসবি) মির্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা সজীব কুমার চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল মান্নান, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ রেয়াজুল হক, জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ সাঈদ হাসান, জেলা শিক্ষা অফিসার এস.এম জিয়াউল হায়দার হেনরী, জেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওডিসি ডা. মোঃ নুরুল হায়দার, স্টাফ অফিসার টু ডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক, সিটি কর্পোরেশনের জোনাল মেডিকেল অফিসার ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত¡াবধায়ক সুজন বড়–য়া, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার গাজী মোঃ নূর হোসেন প্রমূখ।