চলনবিলে নৌকাডুবি, ১০ যাত্রীর প্রাণ বাঁচলো কিশোর সুমনের বীরত্বে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৪৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮

টিবিটি দেশজুড়েঃ সপ্তম শ্রেণী পড়ুয়া এক কিশোরের সাহকিতায় প্রাণে বেঁচে গেছেন পাবনায় চলনবিলে নৌকাডুবির ঘটনায় ডুবে যাওয়া ১০ যাত্রী। শুক্রবার পাবনার হান্ডিয়ালে নৌকাডুবির সময় পাশে ডিঙি নৌকায় ছিলেন সুমন হোসেন। অসামান্য সাহসিকতায় কোনো চিন্তা না করে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সুমন।

এই বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বীর উপাধি দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন জেলা প্রশাসক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন হোসেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত হান্ডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। হান্ডিয়াল ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক আব্দুস সামাদ ও সুফিয়া খাতুনের ছেলে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নৌকাডুবির সময় সুমন ডিঙ্গী নৌকায় বাড়ি ফিরছিল। ঠিক সে সময় আনন্দ ভ্রমণে আসা যাত্রী বোঝাই একটি নৌকা ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া যাত্রীদের আর্তচিৎকার শুনে তাৎক্ষণিক সুমন ঘটনাস্থলে এগিয়ে যায় এবং সবাইকে নৌকা ধরতে বলে এবং পরে তাদের নৌকায় না তুলে শুধু নৌকা ধরা অবস্থায় তাদের বিলের পাড়ে নিয়ে আসে। জীবনে বেঁচে তারা সুমনকে কৃতজ্ঞতা জানায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীদেরকেও উদ্ধার কাজে সহায়তা করে সুমন।

এ বিষয়ে কথা হয় সুমনের সাথে। সে জানায়, ‘আমার ওছিলায় ১০ জন মানুষ প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় আমি খুশি। সে আরো জানান, ঘটনার সময় যাত্রীরা নৌকাটির মাচার (ছই) উপর উঠে সেলফি তুলছিল। হঠাৎ ছই ভেঙে গেলে সবাই তারাহুরো করে মাচা থেকে নামতে গেলে নৌকাটি কাৎ হয়ে ডুবে যায়। যাত্রীদের ডুবে যেতে দেখে তখন আমি সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করি।’

ছেলের এমন সাহসিকতার ঘটনায় খুশি সুমনের বাবা কৃষক আব্দুস সামাদ। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে বড় হয়েও যেন এমন আদর্শ ধরে রাখতে পারে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হান্ডিয়াল এলাকার বাসিন্দা ইশারত আলী বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় চলনবিলের নৌকাডুবির ঘটনায় কারো অপেক্ষা না করেই ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে উদ্ধার তৎপরতায় ঝাঁপিয়ে পড়ে সুমন। তার সহায়তায় একে একে উদ্ধার হয় ১০ জন।

হান্ডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রজ্জাক বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী মানবতার সেবায় যে ভূমিকা রেখেছে তাতে আমি গর্ববোধ করি। তার এই কাজের মূল্যায়ন করা খুবই কঠিন। জেলা প্রশাসক তার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন ।

পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ডুবে যাওয়া নৌকা যাত্রীদের উদ্ধার কাজ পরিদর্শনে গিয়ে কিশোর সুমনের বীরত্বের কথা শুনি। সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সুমন একজন স্বেচ্ছাশ্রমে একজন বীর। দুর্ঘটনার পর পরই সে একাই দশ জনকে উদ্ধারে সাহসী ভূমিকা রেখেছে। এ বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা শিক্ষা অনুদান দেওয়া হয়েছে। সুমনের এই বীরত্ব আগামী প্রজন্মের জন্যও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার পাবনার বড়াল ব্রিজ এলাকা থেকে পরিবার নিয়ে আনন্দ ভ্রমণে যান ঈশ্বরদীর ২৪ জনের একটি দল। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থেকে ফেরার পথে ওই দিন সন্ধ্যায় চাটমোহরের পাইকপাড়ায় নৌকাটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় পাঁচজন মারা যায়।