চলে গেলেন কথাসাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০ | আপডেট: ৭:২৩:অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্রপতন। দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর চলে গেলেন ‘মেমসাহেব’, ‘মৌ’’, ‘রাঙাবৌদি’র স্রষ্ট্রা সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার টালিগঞ্জের নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই সাহিত্যিক তথা সাংবাদিক। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

১৯৩১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মগুরা জেলার সরশুনা গ্রামে জন্ম হয় তার। তারপর ১৯৫০ সালে তিনি ‘লোকসেবক’ পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। সেইসময় সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে একাধিক কাগজে তিনি কাজ করেছেন। দিল্লিতে গিয়ে বেশ কয়েকটি কাগজের হয়ে সংসদ, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ১৯৮০ পর্যন্ত তিরিশ বছরের সাংবাদিকতা জীবন ছিল তার।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি নিমাই ভট্টাচার্য রচনা করেছেন অসংখ্য বই। তার লেখা বইগুলো নানাভাবে সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। তবে তাকে মনে রাখার জন্য একটি মাত্র বই-ই যথেষ্ট। সেটি ‘মেমসাহেব’। এই ‘মেমসাহেব’র জন্যই বাংলার তরুণ সমাজের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন ‘রিপোর্টার’ নিমাই ভট্টাচার্য।

যশোরের সম্মিলনী ইনস্টিটিউশনে ক্লাস নাইন পর্যন্ত পড়েছেন তিনি। তারপর ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় চলে যান কলকাতা। তার প্রথম উপন্যাস ছাপা হয় অমৃত পত্রিকায় ১৯৬৩ সালে। উপন্যাসটি পাঠকপ্রিয় হয়। ১৯৬৮ সালে প্রকাশ পায় ‘মেমসাহেব’ উপন্যাস। তার প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা ১৫০টিরও বেশি।

তার জনপ্রিয় উপন্যাস ‘মেমসাহেব’ চলচ্চিত্রে রূপ পায় ১৯৭২ সালে। তাতে কেন্দ্রীয় বাচ্চু চরিত্রে অভিনয় করেন উত্তম কুমার। এছাড়া অভিনয় করেছিলেন মেমসাহেব হিসেবে অপর্ণা সেন। এরপর তার অনেক উপন্যাসের চিত্রায়ণ হয়েছে।

অমৃত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘রাজধানীর নেপথ্যে’ ছাপা হওয়ার পর লিখেছেন ‘রিপোর্টার’, ‘পার্লামেন্ট স্ট্রিট’, ‘ডিপ্লোম্যাট’, ‘মিনিবাস’, ‘মাতাল’, ‘ইনকিলাব’, ‘ব্যাচেলর’, ‘কেরানি’, ‘ডার্লিং’, ‘নাচনি’, ‘প্রিয়বরেষু’, ‘পিকাডিলী সার্কাস’, ‘কয়েদী’, ‘জংশন’, প্রবেশ নিষেধ, ‘ম্যাডাম’, ‘ককটেল’, ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’, ‘অ্যাংলো ইন্ডিয়ান’ ইত্যাদি উপন্যাস।