চাঁদাবাজি মামলায় সখীপুরে উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতিসহ ৫ জন কারাগারে

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০ | আপডেট: ৮:২০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

টাঙ্গাইলের সখীপুরে ২০১৯ সালের দায়ের করা চাঁদাবাজী মামলায় উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বাচ্চু সিকদারসহ ৫জনকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত সখীপুর এ ৭ আসামীর ৬ জন আত্মসমর্পণ করেন। দুই পক্ষের আইনজীবির শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন আক্তার তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আটককৃতরা হচ্ছেন, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের আবু বকরের ছেলে বাচ্চু সিকদার (৫৫), একই ওয়ার্ডের মৃত হুরমুজ আলীর ছেলে শামসুল হক (৫৪), তার ভাই রউফ সিকদার (৫০), আবুল হোসেনের ছেলে আবুল কাশেম (৪৫) এবং মৃত ইসমাইল সিকদারের ছেলে জেলহক সিকদার (৪৪) ।

জানা যায়, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মৃত পাঞ্জু সিকদারের ছেলে সামাদ সিকদার ২০১৯ সালে তার ক্রয়কৃত জমিতে সখীপুর পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচতারা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় নির্মাণকাজ শুরু করেন। এ সময় উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বাচ্চু সিকদার ও তাদের লোকজন জোরপূর্বক দখল ও চাঁদাদাবি করেন। পরে সামাদ সিকদার বাচ্চু সিকদারসহ ৭জনকে আসামি করে ৪৪৭, ৪৪৮, ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০৬/ ৩৪ ধারায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত সখীপুর এ মামলা করেন। এ মামলায় ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ মামলার ৭ আসামীর মধ্যে ৬জন আত্মসমর্পণ করলে ৫জনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। বাদী পক্ষের আইনজীবি আনোয়ার হোসেন সখীপুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, প্রায় ৩০/৩৫ বছর পূর্বে আবদুস সামাদ সিকদার, মাওলানা মীর শামছোদ্দুহা, রাসেল সিকদার, আজিজুল ইসলাম ও রাসেল মিয়া পৃথকভাবে সাফ কওলা দলিল মূলে সখীপুর শহরের তালতলা চত্বরে জমি ক্রয় করে ২০১২ সালে ’পাঁচ তারা’ মার্কেট নামে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। নীচ তলার কাজ শেষ তারা ব্যবসা শুরু করেন। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় তলার কাজ শুরু করতে গেলে উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বাচ্চু সিকদার ও তার দলবল ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চাঁদার দাবিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। বাচ্চু সিকদারের সন্ত্রাসী দুই ছেলে সোহেল সিকদার ও সুমন সিকদারের কাছে ৭৫ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে পূনরায় কাজ শুরু করেন। কিছুদিন পর আবার ওই সন্ত্রাসীরা মার্কেটের অপর মালিক মাওলানা শামছোদ্দুহার কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকা নেয়। বাচ্চু সিদকার নির্মাণাধীন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় পাঁচটি রুম জোরপুর্বক দখল করে নেয়। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। মার্কেটের আরেক মালিক রাসেল মিয়ার নিকটও ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এ ছাড়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি বাচ্চু সিদকারের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ আরো অনেক অভিযোগ রয়েছে ভুক্তভোগীদের।