চাঁদে নামার অবতরণযান তৈরির দায়িত্ব পেলো স্পেসএক্স

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১ | আপডেট: ৬:৫১:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০২১

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা তাদের আগামী চন্দ্রাভিযানের সময় যে অবতরণযানটি মানুষ নিয়ে চাঁদের বুকে নামবে – তা নির্মাণ করার দায়িত্ব দিয়েছে নকুবের ব্যবসায়ী ইলন মাস্কের রকেট নির্মাতা কোম্পানি স্পেসএক্স-কে।

এ দশকের শেষ দিকে আর্টেমিস নামে এক অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁদে মানুষ পাঠাবে নাসা । এতে নভোচারীদের মধ্যে একজন নারীও থাকবেন যিনি হবেন চাঁদের বুকে অবতরণকারী প্রথম নারী। ওই অভিযানের আরো একটি লক্ষ্য হচ্ছে চাঁদে অবতরণকারীদের মধ্যে একজন অশ্বেতাঙ্গ নভোচারী রাখা।

ঐ অভিযানের জন্য মহাকাশযান তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছে এলন মাস্কের কোম্পানিকে। ২.৯ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি পেয়েছে স্পেসএক্স।

এই চুক্তি পেতে এলন মাস্কের স্পেস এক্স একাই দর হেঁকেছিল, কিন্তু অন্যদিকে অ্যামাজনের মালিক বেজস ব্লু অরিজিনের হয়ে লকহিড মার্চিন কর্প, নর্থরোপ গ্রুমম্যান কর্প এবং ড্রেপারের সঙ্গে একযোগে দর হেঁকেছিল।

এই চুক্তির পরেই নাসার তরফে জানানো হয়, দুই মার্কিন মহাকাশচারীকে নিয়ে চন্দ্রযান চাঁদের পৃষ্ঠে যাবে। নাসার স্টিভ জুরস্কি বলেন, ;যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের ল্যান্ডিং শেষ করা উচিৎ।’ তিনি বলেন, যদি আমরা এটা করতে পারি তবে ২০২৪ সালে আমরা চাঁদের পৃষ্ঠে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি। উল্লেখ্য, মহাকাশযান তৈরির জন্য স্পেসএক্স-এর সঙ্গে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে সেই মহাকাশযানে চেপেই পাঁচ দশকে প্রথমবার চন্দ্র পৃষ্ঠে মহাকাশচারীরা অবতরণ করবে।

শিল্পীর কল্পনায় মানুষের আগামী দিনের চন্দ্রাভিযান। ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে ২০২৪ সালে চাঁদের পৃষ্ঠে নামার ক্ষেত্রে আরও একটি বিশেষ ব্যাপারে নজর দিয়েছে নাসা। আপাতত নাসার প্ল্যান অনুযায়ী ২০২৪ সালে যে ব্যক্তি প্রথম চাঁদের পৃষ্ঠে পা রাখতে চলেছেন তিনি অবেন একজন অশ্বেতকায় ব্যক্তি। বিশেষ উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল এর আগে কোনও অশ্বেতকায় ব্যক্তি চাঁদের পৃষ্ঠে নামেননি।

অন্যদিকে ২০৩০ সালের আগেই স্পেস এক্সের স্টারশিপ রকেট মঙ্গলে নামবে বলে জানিয়েছেন এলন মাস্ক। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি টুইট করেছেন ধনকুবের ও বিজ্ঞানপ্রেমী এলন মাস্ক। সেখানে তিনি লিখেছেন, “২০৩০ এর আগেই মঙ্গলে স্টারশিপ নামাবে স্পেস এক্স। সত্যিই কঠিন প্রান্তিকতা মঙ্গল বেস আলফা স্বাবলম্বী করে তুলছে। মঙ্গল বেস আলফা সাসটেনিং তৈরি করা সত্যিই কঠিন।”

এর আগে গত মাসে প্রাইভেট স্পেস কোম্পানি এ মাসের গোড়ার দিকেই স্টারশিপ SN10 রকেটের সফল উৎক্ষেপণ ঘটায়। ১০ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় একে পাঠানো হয়েছিল। পরে ফের সেটিকে ফিরিয়ে আনা হয়। মাটিতে নামার ৬ মিনিটের মধ্যে রকেটটি ধ্বংস হয়ে যায়।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।