চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি’র গুলিতে গরু ব্যবসায়ী গুরুতর আহত

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৪১:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯

ডাবলু কুমার ঘোষ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি’র গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছে ইব্রাহিম(৪২) নামে এক বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী। তবে, এ ঘটনায় পরস্পর বিরোধী অভিযোগ করেছেন বিজিবি এবং গুরুতর আহত গরু ব্যবসায়ী ও তার স্বজনরা। তবে বিজিবি’র দাবি সে একজন মাদক কারবারী।

রবিবার ভোর রাতের দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জহুরপুর সীমান্তের সাতরশিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত গরু ব্যবসায়ী ইব্রাহিমকে পুলিশের তত্ত্ববধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকের কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ইব্রাহিম (৪২) চরপাকা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকার পাড়া গ্রামের এনামুল হক সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় বিজিবি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে এবং এই মামলায় ইব্রাহিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়,‘শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টার দিকে ওয়াহেদপুর সীমান্তের দশরশিয়া বাজার এলাকা থেকে ইব্রাহিমকে ধরে নিয়ে যায় বিজিবি। এ সময় স্থানীয়রা কেন তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোন কারন জানাননি বিজিবি। রাতে এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও ইব্রাহিমের স্বজনরা ওয়াহেদপুর ক্যাম্পে গিয়ে ক্যাম্প কমান্ডার নওশেদের সাথে কথা বললেও ইব্রাহিমকে ছাড়েনি বিজিবি।

তবে পরিবারের দাবি,‘বিজিবি’র সোর্স সাইফুলের সাথে ইব্রাহিমের গরু ব্যবসার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিলো। আর এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিসও হয়েছে। সাইফুল বিজিবিকে ভুল তথ্য দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। তবে, সাইফুল এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন এ ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্তা নেই। তবে ইব্রাহিমের কাছে গরু ব্যবসা বাবদ টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
Add Image
গুরুতর আহত ইব্রাহিম জানায়,‘ দশরশিয়া বাজার থেকে শনিবার সন্ধ্যায় আমাকে ওয়াহেদপুর ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোর রাতের দিকে বিজিবি সদস্যরা আমার চোখ বেধে সীমান্তে নিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা আমার চোখ খুলে দেয় এবং দুজন সদস্য আমাকে বসিয়ে গুলি চালায়। এতে আমার বামপায়ে গুলি লাগে। তিনি জানান, আমি কোন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। বরাবরই আমি গরু ব্যবসার সাথে জড়িত এবং একজন সাধারণ গরু ব্যবসায়ী। যা এলাকাবাসীও জানে। বিজিবি’র এই অন্যায় কাজের জন্য আমি সুষ্ঠ বিচার চাই। আর নিরাপরাধ মানুষকে এভাবে ধরে নিয়ে গিয়ে বিজিবি’র গুলি করার ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী ও তাঁর পরিবার।

তবে বিজিবি বলছে, মাদক বিরোধী অভিযানের সময় মাদক কারবারীরা তাদের উপর হামলা চালালে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় বিজিবি। এতে ইব্রাহিম গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তার দেহ তল্লাশী করে ৪০৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বিজিবি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল সাজ্জাদ সরোয়ার প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান,‘ এক ইয়াবা কারবারীর দেয়া তথ্য মতে বড় আকারের একটি ইয়াবার চালান আটকের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি’র অধীনস্থ স্পেশাল টাস্কফোর্সের একটি দল জহুরপুর সীমান্তের সাতরশিয়া এলাকায় রাতে অপারেশন পরিচালনা করে। অপারেশন চলাকালীন ৭/৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল বিজিবি’র উপর হামলা চালায়। এ সময় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় বিজিবি। এতে গুলিবিদ্ধ হয় ইব্রাহিম এবং বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি’র তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশের তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

তবে, গরু ব্যবসায়ী ইব্রাহিমকে প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে ৫৩ বিজিবি’র অধিনায়ককে মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও; অধিনায়ক ফোন রিসিভ করেননি।