চান্দিনায় দুর্বৃত্তের হামলা-লুটে ভিটে মাটি ছাড়া সর্বস্ব লুটের শিকার অসহায় পরিবার

শাহজাদা এমরান শাহজাদা এমরান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৩৫:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯

কুমিল্লার চান্দিনায় একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তের হামলা ও লুট-পাটের কারণে বাড়ি ছাড়া এক অসহায় পরিবার। বৃদ্ধ, অন্ত:সত্ত্বা নারী ও শিশুদের নিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে পরিবারটি।

ভিটের মাটি ছাড়া সর্বস্ব লুটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। লুট করেছে আসবাবপত্রসহ ৩টি বসত ঘর, ২টি রান্না ঘর। এমনকি গ্যাসের চুলা, টিউবওয়েল পর্যন্ত লুটে নেয় তারা। মাটির ভিটিগুলো ছাড়া অবকাঠামো কিছু না থাকায় অবস্থাদৃষ্টে মনেই হবে না এখানে ইতোপূর্বে কারো বসতি ছিলো!

সাহায্যে এগিয়ে আসছে না কেউ। প্রশাসনের কাছ থেকে কোন সহযোগিতা না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ওই পরিবারটিা। ছোট-বড় ৮ সদস্যের পরিবারটি বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

একটি হত্যা কান্ডের জেরধরে ঘটনাটি ঘটেছে চান্দিনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড ছায়কোট এলাকায় আবদুর রহমান ড্রাইভার (৭৫) এর বাড়িতে। রহমান ড্রাইভার তার স্ত্রী, ছেলে, আট মাসের অন্ত:সত্ত্বা ছেলের বউসহ সবাই এখন গৃহহীন।

সরেজমিনে ঘটনাস্থল গেলে ভুক্তভোগী অসহায় বৃদ্ধ আব্দুর রহমান (৭৫) জানান, তার ছোট ছেলে জানে আলম এর সাথে পাশ্ববর্তী বাড়ির ফারুক নামে এক ব্যক্তির সাথে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৩১ জুন তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদের এক পর্যায়ে তার ছেলের ছুড়িকাঘাতে ফারুকের মৃত্যু হয়।

ওই দিন পুলিশ জানেআলমকে গ্রেফতার করে। সাথে তার অপর ছেলে মোর্শেদ আলম এ ঘটনার সাথে জড়িত না থাকা সত্তে¡ও বাদী পক্ষ মোর্শেদকে আসামী করায় তাকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

ওই ঘটনার সপ্তাহ খানেক পর নিহত ফারুক এর মামা জসিম উদ্দিন এর নেতৃত্বে প্রায় ১০-১২জন লোক এসে তাদেরকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

তাদের আঘাতে আব্দুর রহমানের মাথায় রক্তক্ষরণ হয়। তাদের একের পর এক হামলায় তার ছেলে মোর্শেদের অন্ত:সত্ত¡া স্ত্রীকে সহ পরিবারের সকলকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হন তারা।

এদিকে প্রতিপক্ষ তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে লুটে নেয় সকল সহায় সম্বল। ৩টি বসত ঘর, ২ ট রান্না ঘর, ঘরের আসবাবপত্র, গ্যাসের রাইজার, টিউওয়েল সহ সব কিছু।

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর আমি থানায় এসে পুলিশকে অবহিত করি। কিন্তু তাতেও কোন আইনি সহযোগিতা পাইনি। এখন অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ মানুষের বাড়ি-বাড়ি ঘুরে কাজ করে। আক্ষেপ করে তিনি বলেন- কোন রকমে বেঁচে আছি আমরা।

অসহায় ওই বৃদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলে যে ঘটনা ঘটিয়েছে তাতে তার ফাঁসি হলেও আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু আমার অন্যান্য ছেলে ও তাদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে আমি কিভাবে বাঁচবো।তারা তো কোন অপরাধ করেনি। আমি নিজেও চলতে ফিরতে পারিনা। খুবই সমস্যায় আছি। আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশিরা জানান, যে হত্যা করেছে আইনে তার সাজা হউক তাতে কোন সমস্য নেই। কিন্তু পরিবারের অপর নিরীহ সদস্যদের কি দোষ!

তাদেরকে কেন হামলা করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হলো? তাদের পরিবারটি উচ্ছেদ করে কেন সর্বস্ব লুটে নেওয়া হলো? প্রতিবেশিদের এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা থানা প্রশাসনও।

এব্যাপারে চান্দিনা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুস ছালাম বলেন, ওই ঘটনায় আমিও ব্যাথিত। এই বিষয়টি সমাধানের জন্য আমি নিজেও থানায় গিয়েছিলাম। যে হত্যা করেছে সে গ্রেফতার হয়েছে।

তার অপরাধের কারণে পুরো পরিবারের উপর হামলা ও লুটের ঘটনার নিন্দা জানাই। যারা লুট করেছে তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

এ বিষয়ে নিহতের মামা ওবাদী পক্ষের নেতা জসিম উদ্দিনের সাথে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

হত্যা মামলার তদন্ত অফিসার চান্দিনা থানার এসআই হারুন-অর-রশিদ জানান, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করেছি। কারা লুটপাট করেছে তা কেউ সঠিকভাবে বলেনি। তবে বাদী পক্ষের লোকজন জড়িত আছে এটা ধারনা করছি। আমি এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডিউটিতে আছি। ফিরে এসেই এ ব্যাপারে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

এব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ মো. আবুল ফয়সল জানান, লুটপাটের সময় ভুক্তভোগীরা কেউ এ বিষয়ে আমাদেরকে অবহিত করেনি। পরেও কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নি।

তবে, জনৈক এক ব্যক্তির নিকট ঘটনা শুনে আমি পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। এখন ভুক্তভোগীরা মামলা দায়ের করলে আইনানুগ বব্যস্থা গ্রহণ করা হবে।