চান্দিনায় হোম কোয়ারেন্টিন মানছেন না বিদেশ ফেরতরা

৭ শতাধিক বিদেশ ফেরতের মধ্যে খুঁজে পাওয়া গেছে অর্ধেক

শাহজাদা এমরান শাহজাদা এমরান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০ | আপডেট: ৮:১২:অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০

কুমিল্লার চান্দিনায় বিদেশ ফেরত সকলকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখতে যথেষ্ট তৎপর রয়েছে প্রশাসন। কিন্তু কিছুতেই হোম কোয়ারেন্টিনে আটকে রাখা যাচ্ছে না বিদেশ ফেরতদের। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিয়েছে চান্দিনা উপজেলায়।

পুলিশ হেড কোয়াটার থেকে আসা তথ্যের ভিত্তিত্বে জানা যায় মার্চের প্রথম দিন থেকে ৬৭টি দেশ থেকে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার স্থায়ী ঠিকানায় এসেছেন প্রায় ৭শতাধিক প্রবাসী। গত ১৯ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৩৫২জনের তথ্য খুঁজে পেয়েছে চান্দিনা থানা পুলিশ। বাকিদের কোন খুঁজ পাচ্ছে না প্রশাসন। যাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি তাদের রয়েছে অবাধ বিচরণ। আর পুলিশ যাদের খুঁজে পেয়েছেন তাদেরকে রেখেছেন হোম কোয়ারেন্টিনে। কিন্তু তাদের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ লোকও হোম কোয়ারেন্টিন মানছেন না!

জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি দেশ থেকে ইতিমধ্যে ৯৪৬জন কুমিল্লার ঠিকানায় ফিরেছেন। তাদের প্রত্যেককে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য জেলা পুলিশ প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিন (একাকিত্ব বসবাস) করতে বাধ্য করছেন। নির্দেশনা মানতে নানা রকম সচেতনতা মূলক কথা বলেও আসছেন। কিন্তু প্রশাসনের লোক চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন ওই ব্যক্তি। বেড়াতে যাচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও। জেলার শুধুমাত্র চান্দিনা উপজেলায় প্রায় ৭ শতাধিক বিদেশ ফেরত এসেছেন। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে এসেছেন ৬০ জন যাত্রী।

সোমবার (২৩ মার্চ) পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এপর্যন্ত ৩৫২জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য বাধ্য করলেও তাদের অনেকেই তা মানছেন না। এমনকি মানুষের মধ্যে সামান্য সচেতনতাও বৃদ্ধি হচ্ছে না। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যেও রয়েছে যথেষ্ট ক্ষোভ।
সোমবার উপজেলার এক প্রবাসীর বাড়িতে গেলে দেখাই মিলেনি তার। এমনকি কোথায় আছে ওই প্রশ্নের উত্তরটুকু দিতে চায়নি পরিবারের কেউ।

এ ব্যাপারে চান্দিনা অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) চান্দিনা চান্দিনায় ৩৫২জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করেছি। তাদেরকে নানা পরামর্শ দিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য সহযোগিতা করেছি। এর মধ্যে ২৫জনের ১৪দিন পূর্ণ হয়েছে। বাকিদের ব্যাপারেও খোঁজ খবর নিচ্ছি।

অনেকেই হোম কোয়ারেন্টিনে থাকছে না এমন প্রশ্নে তিনি জানান- আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। যারা মানছে না তাদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।