চান্দিনা পৌরসভা নির্বাচন : নৌকা নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হলেন আ’লীগের শওকত

শাহজাদা এমরান শাহজাদা এমরান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯:১৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১ | আপডেট: ৯:১৫:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৬, ২০২১

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শওকত হোসেন ভ‚ঁইয়া। তবে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির দলীয় প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খাঁন ও জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী চান্দিনা বাজারের ব্যবসায়ী হাজী শামীম হোসেনের দাবি, ইভিএমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট ডাকাতি ও কারচুপি করা হয়েছে। তারা এই ফলাফল প্রত্যাখান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

রাতে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শওকত হোসেন ভ‚ঁইয়া ৯ হাজার ৪৫১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির দলীয় প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খাঁন পেয়েছেন ২ হাজার ৬৯৫ ভোট। আর নির্বাচনের শুরু থেকেই আলোচিত জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী শামীম হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৫ ভোট।। এছাড়া এলডিপি মনোনিত ছাতা প্রতীকের প্রার্থী জামশেদ আহম্মদ জাকি ১৮৯ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের হাত পাখা প্রতীকের প্রার্থী কাজী রেজাউল করীম ৯৪৪ ভোট পেয়েছেন। মোট ৩১ হাজার ৮৪৮জন ভোটারের মধ্যে ১৬ হাজার ৪৯৩ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোটের হার ছিলো ৫১.৭৯ শতাংশ।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খাঁন বলেন, ইভিএমে ডিজিটাল কারচুপি হয়েছে। আমার নিজের কেন্দ্রেও নৌকার প্রার্থী বিপুল ভোটে পাস করা হাস্যকর ব্যাপার। আমি এই নির্বাচন প্রত্যাখান করে নতুন নির্বাচনের দাবি করছি। জনগণও এই হাস্যকর নির্বাচন প্রত্যাখান করেছে।

জগ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাজী শামীম হোসেন বলেন, ইভিএমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট ডাকাতি হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। ইভিএমে কারচুপির মাধ্যমে আমার নিশ্চিত বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমি এই নির্বাচন প্রত্যাখান করছি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নতুন নির্বাচন দাবি করছি।

শনিবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো.জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইভিএমে কারচুপির কোন সুযোগ নেই। তাদের এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। এমন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ভোটাররা আমাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। নির্বাচনে কোন অনিয়ম হয়নি।

এ দিকে, বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে কুমিল¬ার চান্দিনায় প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি থাকলেও ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে ভোটারদের পড়তে হয়েছে চরম বিড়ম্বনায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে একটি ভোট দিতেই কারও কারও বিশ মিনিট সময়ও লেগেছে। পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডে ভোটারদের কেন্দ্রে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা। এতে চারজন আহত হয়েছেন। এদের একজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।