চামড়া সিন্ডিকেটের হোতা সরকারি দলের এক বড় নেতা: রিজভী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: 7:43 PM, August 13, 2019 | আপডেট: 7:43:PM, August 13, 2019
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার অজুহাতে আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট চামড়ার দাম নিয়ে কারসাজি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘এই চক্রের স্বার্থ রক্ষা করছে নিশুতি সরকার। এদের হোতা সরকারি দলের এক বড় নেতা।’

সোমবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় রিজভী বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চামড়ার বর্গফুট-প্রতি একটা হাস্যকর দাম বেঁধে দিয়ে তাদের সহায়তা করছে। এই অল্প দামের কারণে চামড়া ব্যাপকভাবে পাচার হচ্ছে পাশের দেশে। সিন্ডিকেট করে এতিমের হক মারার এই কাণ্ডকারখানা যারা চালাচ্ছে, বছরের পর বছর ধরে তারাও নিজেদের ধার্মিক বলে প্রচার করে।’

বিএনপি সরকারের সময়ে যে চামড়া কয়েক হাজার টাকায় বিক্রি হতো এখন তা দুই-তিনশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘সব জিনিসের দাম হু হু করে বাড়লেও দফায় দফায় কমতে কমতে দশ ভাগের এক ভাগে নেমেছে কাঁচা চামড়ার দাম। নীরব প্রতিবাদ হিসেবে সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি না করে কোরবানির চামড়া মাটির নিচে পুঁতে রাখছেন অনেকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবে পাট শিল্প ধ্বংস করা হয়েছে, ঠিক সেই পথেই ধ্বংস করা হচ্ছে বাংলাদেশের ট্যানারি শিল্প। সুইস ব্যাংকে আর কত টাকা পাঠানো সম্পন্ন হলে বাংলাদেশের জনগণ মুক্তি পাবে?’

সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘‘তিনি যখন দুর্ভোগকে স্বস্তিদায়ক আর আনন্দ যাত্রা বলছেন, তখন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রবিবার ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন ঈদে তার বাড়ি ফেরার চরম ভোগান্তির কথা। তিনি লেখেন- ‘আমার ট্রেন ১৫ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়লো। শিডিউলে থাকা অনেক প্রোগ্রাম মিস করলাম।’ এরপরও মন্ত্রী সাফাই গাচ্ছেন নিজের সাফল্যের, এরকম নির্লজ্জতা দেশবাসী আগে কখনও দেখেননি।’’

খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্বের আজ ৫৫২তম কালিমালিপ্ত দিবস উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘গতকাল ঈদের দিন তার পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন। তিনি এখন গুরুতর অসুস্থ। তার জীবন এখন সংকটময় অবস্থায় উপনীত হয়েছে। কারাগারে নেওয়ার সময় সম্পূর্ণ সুস্থ নেত্রী এখন হুইল চেয়ার ছেড়ে উঠতে পারছেন না। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেছে। তার ওপর ইনসুলিনের কার্যকারিতা অনেক কমে গেছে।’