চালের দাম বেঁধে দিল সরকার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০ | আপডেট: ৯:০৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২০
ফাইল ছবি

সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মিনিকেট চাল (মিলগেট মূল্য) প্রতি ৫০ কেজি বস্তার মূল্য ২ হাজার ৫৭৫ টাকা এবং মাঝারি চাল প্রতি ৫০ কেজি বস্তার মূল্য ২ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

এ মূল্য বাস্তবায়ন না হলে ১০ দিনের মধ্যে সরকার সরু চাল আমদানির অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার খাদ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠক করে প্রথমে ১৫ দিন আগের দামে চাল বিক্রির নির্দেশ দেন খাদ্যমন্ত্রী। এরপর আবার চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করে চালের দাম বেঁধে দেয়া হয়।

বৈঠক চলাকালে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চালের দাম ১৫ দিন আগে যা ছিল সে দামেই পুরো অক্টোবরে বিক্রি করতে হবে। কোনোভাবেই এ মাসে আর চালের দাম বাড়ানো যাবে। গত এক সপ্তাহে যে পরিমাণ দাম বেড়েছে তা কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মিনিকেট চাল আগের দামে বিক্রি করতে হবে। পাইকারি বাজারে ৫১ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে প্রতি বস্তা মিনিকেট চালের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৭৫ টাকা। আর ২৮ নম্বর বা মাঝারি মানের চাল প্রতি বস্তা ২ হাজার ১৫০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাইকারিতে প্রতি কেজি চাল ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা। এর ব্যত্যয় হলে ১০ দিনের মধ্যে সরু চাল আমদানি করা হবে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, মোটা চাল পর্যাপ্ত মজুত আছে। মানুষ এখন মোটা চাল খায় না। যারা খায় তাদের জন্য ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে দিচ্ছি। আড়ৎদার ও খুচরা বাজারের দাম কৃষি বিপণন ও ভোক্তা অধিকার নির্ধারণ করবে। প্রতিদিন তারা সকালে এটা নির্ধারণ করে।

তিনি ব্যবসায়ীদের বলেন, প্রতি সপ্তাহে ধান-চালের দাম বাড়ছে। এটা আপনারা করেন না। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে আমরা আমদানি করতে বাধ্য হবো চালের দাম আর বাড়াবেন না। গত এক সপ্তাহে যে দাম বাড়িয়েছেন সেটা কমিয়ে আনেন। করোনার সময়ে লাভ কম করেন। আজ থেকে পাক্ষিক ক্ষমতাসম্পন্ন ধান মজুত আছে। যেটা ১৫০ টাকা বাড়িয়েছেন সেটা কমিয়ে আনেন। আপনারা নতুন ধান কেনেন না। তবে চালের দাম কমিয়ে আনতে হবে।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত শুরু হয়েছে। এখন মিল মালিকরা বলেন পুলিশ পাঠাইয়েন না। আমরা এর ব্যবস্থা করছি। ধান চাল মজুত আছে। এই ধান চাল বের করতে হবে। মিলাররা যদি সেসব মজুতদার থেকে ধান কেনা বন্ধ করেন তাহলে অটো সে ধান বের হয়ে আসবে।

খাদ্য সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবদুল আজিজ মোল্লা প্রমুখ।