চাল কেনার টাকা নেই, আলুসিদ্ধ খেয়ে দুই দিন রোজা

প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১ | আপডেট: ২:৫৭:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১
ছবি: সংগৃহীত

আলুসিদ্ধ খ্যায়া দুই দিন থাকি রোজা আচি। আইজও কামাই নাই। দুই কেজি চালের ট্যাকা রোজগার করতে না পারলে হয়তো আবার আইজও আলুসিদ্ধ খায়া রোজা থাকা নাগবে। এভাবে আর কয়দিন চলবো? ছোট ৭ বছরের সন্তানকে কী খাওয়াব? সে আর আলুসিদ্ধ খেতে চাইছে না। ভ্যান চালিয়ে এহনো কোনো আয় করতি পারিনি।

সর্বাত্মক লকডাউনে ভ্যানের ভাড়া কমে যাওয়ায় গতকাল বেলা ৩টা পর্যন্ত এক টাকাও রোজগার করতে না পেরে এভাবেই নিজের বর্তমান অবস্থার কথা বর্ণনা করছিলেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দরিদ্র রিক্সা-ভ্যান চালক নুরনবী (৬০)।

বৃহস্পতিবার উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের সাদুল্যাহপুর গ্রামে রাস্তার মোড়ে ভ্যান নিয়ে অলস সময় কাটাচ্ছিলেন নুরনবী। এ সময় তার সঙ্গে কথা হয়। পাশের নিঝাল গ্রামে তার বাড়ি।

নুরনবী বলেন, ‘আইজ কয়দিন থাকি নকডাউন (লকডাউন) হওচে। সেই থাকি কোন কামাই রোজগার নাই। বাইরে মানুষ বাইর হয় না। ভ্যানে যাত্রী ওঠে না। ঘরোত চাউল নাই। খায়া না খায়া দিন কাটোছে হামার। বউ ছইল নিয়া খুব কষ্টে আছি।’

নুরনবীর পরিবারে ৬ সদস্য। সবচেয়ে ছোট ৭ বছরের মেয়ে। ৪ শতক জমিতে খড়ের বেড়া দিয়ে ঘর বানিয়ে বসবাস করেন তিনি। আবাদী জমি নেই এক শতকও।

আক্ষেপ করে নুরনবী জানান, ‘সরকারি কোন অনুদান, ভিজিডি, ভিজিএফ, কিংবা বয়স্ক ভাতা সুবিধা পাননি তিনি। লকডাউনের কারণে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত এক টাকাও রোজগার হয়নি তার। চালের টাকা রোজগার করতে না পারলে হয়তো আজও সেন্ধ আলু খেয়ে রোজা থাকতে হবে তার।

তিনি জানান, নিজেরা কোনরকমে আলু খেয়ে দিন কাটালেও ছোট সন্তানটি খেতে চায় না। ভাত খাওয়ার বায়না ধরে।

বিষয়টি জেনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন ভুঁইয়া বলেন, বর্তমানে নিন্ম আয়ের মানুষেরা খুব কষ্টে আছে। ওই ভ্যান চালককে সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে।