চায়ের নেশায় হাসপাতাল থেকে পালালেন করোনা রোগী, আতঙ্কে চা-দোকানি!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:১৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০ | আপডেট: ৩:১৪:অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২০
প্রতিকী ছবি

মারণ ভাইরাস করোনা থাবা বসিয়েছে তার শরীরে। তাই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রয়োজন। সে কারণে সত্তরোর্ধ্ব ওই বৃদ্ধকে ভর্তি করা হয়েছিল হাসপাতালে। সেখানে দিব্যি ছিলেন তিনি। তবে বৃদ্ধের দাবি একটাই, মাঝে মধ্যে নেশা মেটাতে তাকে গরম গরম চা খেতে দিতে হবে। কিন্তু হাসপাতাল কর্মীরা তার সেই দাবিতে কান দেননি। অগত্যা মধুসূদন, নেশার টানে চায়ের দোকানের খোঁজে হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধ নিজেই।

পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে ঠিকই। তবে এই ঘটনার পর থেকেই করোনা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চায়ের দোকানি।

ইন্ডিয়াটাইমস জানায়, ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর নাগারভাবির বাসিন্দা ওই ব্যক্তি ক্লান্তি ও ডায়েরিয়া নিয়ে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হলে ফল পজিটিভ আসে। কয়েক দিন সেখানে থাকার পর বিল দেড় লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেলে, সেই হাসপাতালের বিল মিটিয়ে মাইসুরু রোড সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে আসেন। কিন্তু সেখানে প্রথমে বেড না মেলায় তিন ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সেই অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে। এক আত্মীয়ের যোগাযোগে শেষ পর্যন্ত রাত দেড়টা নাগাদ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

সারা রাত এই সবের পরে এক কাপ চায়ের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। সকাল হতেই ভোর পাঁচটা নাগাদ এক হাসপাতাল কর্মীর কাছে এক কাপ চা চান তিনি। কিন্তু সাড়ে সাতটার সময়ও সেই চা না পেয়ে অধৈর্য্য হয়ে তিনি নিজেই বেরিয়ে পড়েন। তাঁর হাতে লাগানো স্যালাইনের নল খুলে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন ৭৩ বছরের ওই ব্যক্তি। কিছুদূর গিয়ে বড় রাস্তার ওপরেই চায়ের দোকান দেখতে পান তিনি।

সেখানে গিয়ে এক কাপ গরম ধোঁয়া ওঠা চা নিয়ে গুছিয়ে বসেন। তাঁর আশপাশে তখন আরও বেশ কয়েকজন চা খাচ্ছিলেন। ওই বৃদ্ধের হাতে ব্যান্ডেজ দেখে তাঁর কী হয়েছে তা জানতে চান দোকানে চা খেতে আসা এক ব্যক্তি। যেন কিছুই হয়নি, এমন ভাবে নিরুত্তাপ মুখ চায়ে চুমুক দিতে দিতে বৃদ্ধ জানিয়ে দেন যে তাঁর করোনা আছে। চা খেতে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে এসেছেন তিনি।

বৃদ্ধের মুখে ওই কথা শুনে লাফ দিয়ে ওঠেন দোকানে উপস্থিত বাকি ক্রেতারা। চায়ের কাপ ফেলে তখনই সেখান থেকে পালান তাঁরা। ওই চায়ের দোকানের মালিক নারায়ণ এলসি পরে জানিয়েছেন যে কাছাকাছি হাসপাতাল বলতে মাইসোর রোড হসপিটাল, সেখান থেকেই ওই বৃদ্ধ এসেছেন তা বুঝতে পেরে দৌড়ে ওই হাসপাতালে গিয়ে খবর দেন তিনি। হাসপাতাল থেকে লোক এসে বৃদ্ধকে ধরে নিয়ে যায়।

এই ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ওই চায়ের দোকানটি আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বৃদ্ধের খেয়াল না রাখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপরেই দোষ চাপিয়েছেন তাঁর পরিবার।