চিতলমারীতে জাল সার্টিফিকেটে চাকরী নিয়ে গড়েছেন পাঁকা বাড়ি, শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মামলা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১ | আপডেট: ৮:২০:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

গোবিন্দ মজুমদার, চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের চিতলমারীতে জাল সার্টিফিকেটে চাকরী করে ফেঁসে গেছে শিলা রানী বিশ্বাস নামের এক স্কুল শিক্ষিকা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বড়বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী পদে শিক্ষকতা করে গড়েছেন পাঁকা বাড়ি। চাকরীর ১০ বছর পর সনদ যাচাইয়ে ধরা খেলেন বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর হাতে।

গত ০৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে ২২২৫ স্মারকে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই সংক্রান্ত বিষয়ে বড়বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর এনটিআরসিএ একটি চিঠি প্রেরণ করে। চিঠিতে শিলা রানী বিশ্বাস, পিং-প্রফুল্ল কুমার বিশ্বাস, সহকারী শিক্ষক (সমাজ বিজ্ঞান), তার ৫ম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ২০০৯ এর সার্টিফিকেটটি জাল ও ভূয়া উল্লেখ করা হয়। বলা হয় রোল নম্বর অনুত্তীর্ণ। প্রাপ্ত নম্বর আবশ্যিক ৪১, ঐচ্ছিক ২১। একই সাথে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জাল সার্টিফিকেটে চাকরী করার অপরাধে বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে থানায় মামলা দায়ের করে বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করার জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ করা হয়।

এর আগে ০৮/৯/২০২০ তারিখ এনটিআরসিএ পক্ষ থেকে বেসরকারী ও জাতীয়করণকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকদের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক সত্যায়িত শিক্ষক নিবন্ধন সনদের ফটোকপির সাথে নিয়োগ পত্রের সত্যায়িত ফটোকপি নিয়োগের স্বপক্ষে উপর্যুক্ত প্রমাণাদি প্রেরণ করতে বলা হয়। সেই মোতাবেক বড়বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৬ জন শিক্ষকের সনদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এনটিআরসিএ দপ্তরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কেবলমাত্র শিলা রানী বিশ্বাস এর শিক্ষক নিবন্ধন সনদটি দালিলিক ভাবে জাল ও ভূয়া বলে প্রমাণিত হয় মর্মে এনটিআরসিএ ০৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে জানায়।

এনটিআরসিএ থেকে চিঠি পেয়ে ম্যানেজিং কমিটি ১০/১২/২০২০ তারিখের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রধান শিক্ষক কাজী টিপু সুলতান বাদী হয়ে চিতলমারী থানায় ১০ ফেব্রুয়ারী ৪০৬, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সহকারী শিক্ষিকা (সমাজ বিজ্ঞান) শিলা রানী বিশ্বাস (এমএবিএড) বড়বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১০/৩/২০১১ সালে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন স্কেলে তিনি ১৭ লাখ ২৪ হাজার ৫শ চার টাকা বেতন উত্তোলণ করেন। তার স্বামী উপজেলার চর বড়বাড়িয়া গ্রামের দিপুল কৃষ্ণ বিশ্বাস স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

এ বিষয়ে বড়বাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী টিপু সুলতান জানান, এনটিআরসিএ এর চিঠি অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ের মাধ্যমে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চিতলমারী থানায় মামলা দায়ের করি। তবে সহকারী শিক্ষিকা শিলা রানী বিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার বাড়ীতে গিয়ে পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে উপজেলার কলাতলা গ্রামের স,ম,ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষিকা শাকিলা পারভীন এর বিরুদ্ধেও এনটিআরসিএ থেকে ২য় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা ২০০৬ এর সনদ জাল ও ভূয়া বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪৭ নং স্মারকে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাই সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কেএম রাজু আহম্মেদ বলেন ২৪ ফেব্রুয়ারি আমি ওই চিঠি হাতে পাই। সামনে ম্যানেজিং কমিটি ডেকে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিদ্যালয়ের পক্ষ হতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিতলমারী থানার ওসি মীর শরীফুল হক জানান, সহকারী শিক্ষিকা শীলা রানী বিশ্বাসের নামে বড়বাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী টিপু সুলতান বিদ্যালয়ের পক্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ২। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।