‘চীন-ভারত সংঘাতে বাংলাদেশ সময়োপযোগী কৌশল নিয়েছে’

প্রকাশিত: ১:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০ | আপডেট: ১:০৯:অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

দীর্ঘ সময় ধরে চলমান বৈরিতা গত শুক্রবার (১৯ জুন) শেষ পর্যন্ত সংঘাতে রূপ নেয়। এ দিন চীনা সেনাদের হামলায় ভারতের ২৩ সেনা নিহত হয়। চীনের হাতে বন্দী হয় ১০ ভারতীয় সেনা। যাদেরকে শুক্রবার ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে খবর দিয়েছে বিবিসি।

এদিকে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা কিছুটা কমলেও সমস্যা সমাধানের কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।

গত বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও ভারত-চীন মেজর জেনারেল পর্যায়ের বৈঠকও নিষ্ফল হয়েছে।

প্রায় ৬ ঘণ্টা বৈঠক করেন দু দেশের সেনা কর্মকর্তারা। কিন্তু তাতেও মিলছে না সমাধান। বরং লাদাখ সীমান্তে নিজেদের শক্তি আরও বাড়িয়েছে পিপল্‌স লিবারেশন আর্মি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

এর পরিস্থিতির মধ্যে চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে ভারতের বিভিন্ন মহল। দেশটির অভিনয়শিল্পীদেরও চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশকে পক্ষে টানতে চাইবে চীন ও ভারত। ফল দেশ দুটির চলমান সংঘাত যদি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধে জড়ায় তাহলে সরাসরি কোনো দেশের পক্ষে অংশ নিতে বাংলাদেশকে চাপে পড়তে হতে পারে বলে মন্তব্য বিবিসির।

তবে চীন-ভারতের চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চুপ থাকাই উত্তম বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান।

শুক্রবার দেশের একটি প্রথমসারির অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক এম শাহিদুজ্জামান বাংলাদেশের প্রতি এ পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশ সরকার চুপ থাকার নীতিই অবলম্বন করেছে এবং এটি সময়োপযোগী কৌশল।

তিনি বলেন, ‘ভারত চাইছে লাদাখের ঘটনায় বাংলাদেশ, নেপাল এমনকি পাকিস্তানও চীনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করুক। কিন্তু তা হয়নি। এটি বিজিপি সরকারকে অবাক করেছে। জানতে পেরেছি, ভারতের পররাষ্ট্র দফতর নাকি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশ কেন ভারতকে সমর্থন করে কথা বলছে না? ভারত এ ব্যাপারে চাপ দিতে পারে। কিন্তু আমাদের শক্ত অবস্থানে থেকে চুপ থাকার নীতি অবলম্বন করতে হবে। আমাদের কোনো পক্ষই সমর্থন করা ঠিক হবে না।’

এই বিশ্লেষক বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাজনৈতিক এবং তা বৈষম্যের। আর চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অর্থনৈতিক উন্নয়নের এবং তা ব্যাপক। নিরাপত্তা ও সামরিক শক্তির সহযোগিতার প্রশ্নে চীনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তার জন্য চীন বাংলাদেশের ভালো বন্ধু। চীন বাংলাদেশকে সাবমেরিন দিয়েছে, যা ভারতকে অবাক করেছে। চীন বাংলাদেশকে ২০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে, যা ভারত চায়নি। ভারত জানে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কের মাত্রা কেমন। ভারত এ সম্পর্কে নানাভাবেই বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু উন্নয়ন প্রশ্নে বাংলাদেশকে কোনোভাবেই চীনের সঙ্গ ছাড়া যাবে না। তাতে ভারত যতই মনঃক্ষুণ্ন হোক।’

শাহিদুজ্জামান বলেন, ‘নাগরিক পঞ্জি তৈরি করে মোদি সরকার বাংলাদেশের বড় ক্ষতি করতে চেয়েছিল। কাশ্মীর অবরুদ্ধ করে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপ্রিয় মানুষের মনে দাগ কেটেছে। বিজেপি অতিমাত্রায় জাতীয়তাবাদের রাজনীতি করে এ অঞ্চলে অশান্তি সৃষ্টি করেছে, যা বাংলাদেশ সরকারের জন্যও বিব্রতকর। যে কারণে নৈতিক সমর্থনও পাচ্ছে না ভারত। একইভাবে সমর্থন পাবে না পশ্চিমা বিশ্বও। কারণ চীন বিশ্বশক্তি। আর ভারত এখনও আঞ্চলিক শক্তি, যেখানে প্রতিবেশীদের ওপর জুলুম করেছে। এটা ভাবনার বিষয়। না হলে চীনের সমালোচনায় সবাই একাত্মতা প্রকাশ করতো।’