চুরির অভিযোগে প্রতিবন্ধী যুবককে নারী ইউপি সদস্যের প্রহার, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১ | আপডেট: ১:১৩:অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১

শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যায় মোবাইল চুরির অপরাধে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীকে ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে। মারধরের একটি ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ঘটনাটি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২, ৩নং ওয়ার্ড সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে।

নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির নাম আব্দুল কাদের চৌকিদার। তিনি উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের ধানকাঠি গ্রামের মোতালেব চৌকিদারের ছেলে। তিনি একজন মানসিক প্রতিবন্ধী।

ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে

গত মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ইউপি মেম্বার নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন নির্যাতনের শিকার যুবকের বড় ভাই। ওই নারী মেম্বারকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, কনেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ-সংলগ্ন জায়গায় নির্মাণ হচ্ছে ডামুড্যা উপজেলা মডেল মসজিদ। মসজিদের নতুন ভবন নির্মাণ শ্রমিকের (কনেশ্বর এসসি এডওয়ার্ড ইনস্টিউটে) থাকার কক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি মোবাইল ও চারটি চার্জার চুরি হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ওই কক্ষ থেকে আরও একটি মোবাইল চুরি হয়। ওইদিন প্রতিবন্ধী আব্দুল কাদের চৌকিদারকে কক্ষের কাছে আনাগোনা করতে দেখলে নির্মাণ শ্রমিকদের সন্দেহ হয়।

তাৎক্ষণিক শ্রমিকরা আব্দুল কাদেরকে ধরেন। পরে মেম্বারের নির্দেশে তাকে কনেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি সৌরবিদ্যুতের স্ট্রিটলাইটের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে বাঁধেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মারধরের ওই ভিডিও ‘আমাদের শরীয়তপুর’ নামের একটি ফেসবুক আইডিতে ভাইরাল হয়।

৩ মিনিট ৫ সেকেন্ডর ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আব্দুল কাদেরকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাকে ঘিরে রেখেছেন লোকজন। মোবাইল কোথায় রেখেছেন তা জানতে চাচ্ছেন ইউপি মেম্বার নাজমা। তার হাতে গাছের একটি ডাল। তিনি সেটি দিয়ে আব্দুল কাদেরের শাসাচ্ছেন এবং তার সঙ্গে ‘তুই তুকারি করছেন’। একপর্যায়ে ডাল দিয়ে কাদেরকে একবার মৃদু প্রহার করতে দেখা যায় নাজমাকে।

এ বিষয়ে গোসাইরহাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর আহমদ বলেন, ‘মোবাইল চুরির অভিযোগে ৩০ বছরের একজন ব্যক্তিকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনার সঙ্গে একজন মহিলা মেম্বার জড়িত আছেস বলে জানতে পারি। তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আরও যারা এর সঙ্গে জড়িত আছেন তাদের তদন্তসাপেক্ষে আইনের আওতায় আনা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মর্তুজা আল মুঈদ বলেন, ‘ভিডিওটি দেখেছি। বৃহস্পতিবার ওই ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা মিটিং ছিল। প্রসঙ্গক্রমে মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। জানতে পারি, ওই ব্যক্তি শ্রমিকদের দুটি মোবাইল চুরি করে একটি মোবাইল ফেরতও দিয়েছে। আরেকটি মোবাইলের জন্য শ্রমিকরা তাকে চাপ প্রয়োগ করছিলেন। তখন শ্রমিকরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন ও মারমুখী হন। তাকে বেঁধে রাখেন। তখন ইউপি সদস্য নাজমা বাধা দেন। পরবর্তীতে নাজমা যা করেছেন সেটা কাম্য নয়। তিনি ওই ব্যক্তিকে গালাগাল করেছেন এবং লাঠি দিয়ে মৃদু আঘাত করছেন। এটা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ও লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে সমাধান করা যেত।’