চুরির দায়ে যুবককে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০ | আপডেট: ১১:৩৯:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২০
ছবিঃ সংগৃহিত

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চার্জার চালিত ভ্যান চুরির দায়ে এক যুবককে ল্যাম্পপোস্টের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সেই নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার উপজেলার দয়ারামপুর বাজার এলাকায় এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে। নির্যাতিত যুবকের নাম মনিরুল ইসলাম। তিনি উপজেলার মাছিমপুর মহল্লার আব্দুল গাফফারের ছেলে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে দয়ারামপুর এলাকার মিশ্রিপাড়া গ্রামের মাহাতাব সরদার নামের এক ব্যক্তির জানাজা নামাজের আয়োজন চলছিল। মিশ্রিপাড়া গোরস্থান এলাকায় জানাজা নামাজের কয়েক মিনিট পূর্বে সেখান থেকে ওই এলাকার আলমগীর হোসেনের চার্জার চালিত ভ্যানগাড়ি চুরি করে নেয়ার সময় দেখতে পায় স্থানীয়রা।

এসময় ভ্যানগাড়িসহ মনিরুল ইসলামকে স্থানীয়রা আটক করে। পরে মনিরুলকে দয়ারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবনের সামনে লাম্পপোস্টের খুঁটির সাথে হাত পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়। আর সেই নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ৯৯৯ এর মাধ্যমে এমন নির্যাতনের খবর পান বাগাতিপাড়া মডেল থানা পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ যুবককে উদ্ধার করে।

উদ্ধারকারী বাগাতিপাড়া মডেল থানার এসআই তারেকুল ইসলাম জানান, মনিরুলকে ইউনিয়ন পরিষদের নির্মানাধীন ভবনের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা তাকে সামান্য মারধর করেছে এমন কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, মনিরুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে দয়ারামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুর রহমান মিঠু জানান, জানাজা নামাজের সময় ভ্যান চুরির সময় একজনকে স্থানীয়রা আটক করে। পরে থানা পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে আটক ব্যক্তিকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাকে মারধর বা নির্যাতনের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি শুনেছেন।

বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মতিন বলেন, ভ্যান চুরির সময় জনতার হাতে আটক মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জার চালিত ভ্যানের মালিক আলমগীর হোসেনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি চুরির মামলার প্রস্তুতি চলছে। নির্যাতনের তেমন কোন অভিযোগ তার কাছে নেই। তবে চুরির সময় জনতা সামান্য মারধর করতে পারে, তা হাসপাতালে ভর্তির মতো কিছু না।