চুরি যাওয়া রিজার্ভ ফেরত পেতে নতুন আশার সঞ্চার

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৬:১৩:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় অর্থ পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ফিলিপিন্সের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) সাবেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মায়া সান্তোস-দেগুইতো।

সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরির তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া সম্পূর্ণ অর্থ উদ্ধার করা না গেলেও একটি সুখবর পাওয়া গেছে।

নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ জানিয়েছে, ‌‌‘বৃহস্পতিবার ফিলিপিন্সের মাকাটি আঞ্চলিক বিচারিক আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হয়। বিচারক সিজার উন্তালান মায়া সান্তোস-দেগুইতোকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তির রায় দেন।

রায়ে দেগুইতোকে ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগের গুরুত্ব অনুসারে প্রতিটির জন্য ৪ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১১ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।’

চুরি হওয়া রিজার্ভের সাড়ে তিন কোটি ডলারের বেশি অর্থ শ্রীলঙ্কা এবং ফিলিপিন্স থেকে বাংলাদেশে ফেরত এসেছে। এর মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার, আর ফিলিপিন্সে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ফিরে এসেছে মাত্র ১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। আরও অর্ধকোটি উদ্ধারে অগ্রগতি আছে।

অর্থ ফেরত আনতে ফিলিপিন্স সরকারের সংশ্লিষ্টরা শুরুতে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে এলেও হঠাৎ রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক করপোরেশন (আরসিবিসি) বলেছে, এর দায় বাংলাদেশের। এরপরই বলতে গেলে বন্ধ হয়ে যায় উদ্ধার প্রক্রিয়া। এখন ওই ব্যাংকের সাবেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাদের দাবির আর কোনো ভিত্তি থাকলো না।

রিজাল ব্যাংকের গড়িমসিতে চুরি হওয়া অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া আটকে গেলেও বিচারিক আদালতের এ রায়ের মধ্য দিয়ে তা ফেরত পাওয়ার আশা জেগে উঠেছে। এখন বাংলাদেশকে আইনি প্রক্রিয়াসহ যথাযথ কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেবেন বলে আমরা আশা করি।

আরসিবিসি’র সাবেক ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মায়া সান্তোস-দেগুইতোর যে অর্থদণ্ড করা হয়েছে তা বাংলাদেশের প্রাপ্য রিজার্ভের চেয়ে বেশি। মায়া সান্তোসের পাশাপাশি অন্য অপরাধীরাও তাদের প্রাপ্য দণ্ড পাবে বলে আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশের কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অপরাধীদের এমন শাস্তি দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধ সংঘটিত করার সাহস না পায়।

চুরি হওয়া রিজার্ভ ফেরত পাওয়ার আশা যখন ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছিল, তখন ফিলিপিন্সের বিচারিক আদালতের রায় আমাদের আবারও আশাবাদী করে তুলছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানাচ্ছি।