চূড়ান্ত নাগরিক তালিকায় আস্থা নেই আসামের মন্ত্রী-রাজনৈতিক নেতাদের!

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯ | আপডেট: ১:২৪:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯
সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়েই প্রকাশিত হয়েছে আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত তালিকা। নতুন এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ৩ কোটি ১১ লাখ মানুষ। বাদ পড়েছেন ১৯ লাখ। এর আগে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৪১ লাখ।

এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় যত এগিয়েছে, সমগ্র আসাম রাজ্যজুড়ে নেমে এসেছে আশঙ্কা আর উদ্বেগের ছায়া। একটা প্রশ্নই ঘুরে বেড়াতে থাকে, চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকবে তো?

শনিবার সকাল ১০টায় আসামের নাগরিকপঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর তাতে দেখা যায়, রাজ্যের ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। তালিকায় নিজের নাম আছে কিনা- সেটা অনলাইনে দেখতে পাবেন বাসিন্দারা।

যাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই তারা সরকার পরিচালিত সেবাকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন বলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অবশ্য ইতোমধ্যে অনেকেই এনআরসি’র পদ্ধতি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন রাজ্য বিজেপির বেশ কিছু নেতা-মন্ত্রীও। তাদের আশঙ্কা- বহু বাঙালি হিন্দুর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।

আবার অনেক বিদেশি এই তালিকায় ঢুকে পড়তে পারেন। গত সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এনআরসি নিয়ে বৈঠক করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল।
তিনি পরে জানান- তালিকা থেকে বিদেশিদের বাদ দিতে কেন্দ্র আইন আনারও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। যাতে সঠিক নাগরিকরা তালিকা থেকে বাদ না পড়েন।

এদিকে আসাম রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মাও এই এনআরসি তালিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বৈধ নাগরিকদের চিহ্নিত করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বাতিল করার ক্ষেত্রে এই তালিকা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ লাগোয়া জেলা দক্ষিণ সালমারা ও ধুবুরিতে তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের হার সর্বনিম্ন। অথচ ভূমিপুত্র জেলায় প্রচুর মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এটা কী ভাবে সম্ভব? আমরা এই তালিকায় ভরসা রাখছি না।’

অবশ্য এনআরসি’র চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে উদ্বেগ ও আশঙ্কায় থাকা নাগরিকদের একরকম আশ্বস্তই করছে সরকার। তালিকায় নাম না থাকলে কী করতে হবে সে প্রক্রিয়াও জানিয়েছে তারা।

তালিকায় নাম না থাকা নাগরিকদের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে (বিদেশী ট্রাইবুনালে) আবেদন করতে বলা হয়েছে ১২০ দিনের মধ্যে। এই সময়সীমা আগে ছিল ৬০ দিন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, এই বিষয়ে শুনানির জন্য আসাম রাজ্যজুড়ে এক হাজার ট্রাইব্যুনাল গড়ে তোলা হবে। ইতোমধ্যেই ১০০ ট্রাইব্যুনাল খোলা হয়েছে।

আরও ২০০টি ট্রাইব্যুনাল সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই খোলা হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ট্রাইব্যুনালে মামলাটি হেরে যান, তিনি হাইকোর্ট এবং সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থও হতে পারেন।