‘চোখের জলে’ কাটল রোহিঙ্গাদের ঈদ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৪২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৪২:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৯

চোখের জলে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত সাড়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। পরদেশে ঈদ উদযাপনে রোহিঙ্গাদের মাঝে দেখা যায়নি ঈদের আনন্দ উচ্ছাস। তবে বাংলাদেশে শান্তির আশ্রয়ে কিছু সময়ের জন্য অতীত ভুলে ঈদ উদযাপন করতে দেখা গেছে রোহিঙ্গাদের।

ঈদের দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে নামাজে শামিল হয়েছেন রোহিঙ্গা মুসলিমরা। নামাজ আদায়ের পর তাদের অনেকেই কুরবানি দিয়েছেন। যারা কোরবানি দিতে পারেনি, সরকার ও এনজিওর পক্ষ থেকে তাদের মধ্যে মাংস বিতরণ করা হয়।

জানা যায়, উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা হয়। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন রোহিঙ্গারা। মিয়ানমারে ফেলে আসা পরিবার পরিজনের জন্য প্রার্থনা করেন তারা। নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও মর্যাদার সঙ্গে রাখাইনে যেন তারা ফিরে যেতে পারেন মোনাজাতে সেই দোয়াও করা হয়।

এক রোহিংগা আব্দুল আজিজ বলেন, নিজ উদ্যোগে একটি গরু কুরবানি দিয়েছি। নিজের বাড়ির জন্য কিছু মাংস রেখে বাকি মাংসগুলো আমার প্রতিবেশীদের ভাগ করে দিয়েছি।

আরেক রোহিংগা শরনার্থী মকবুল আহমেদ বলেন, চোখের জলে বাংলাদেশে দ্বিতীয়বারেরমত ঈদ উদযাপন করতে পারলাম। বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং হোস্ট কমিউনিটি আমাদেরকে সবধরনের সাহায্য সহায়তা করে আসছেন। এজন্য আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তবে নিজের ভিটেমাটি পরিবার পরিজনের কথা মনে পড়ে। আরাকানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কতৃক নির্যাতনের কথা মনে পড়লে গা শিউরে উঠে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, পাঁচ হাজার পশু কোরবানি করে এক লাখ ২০ হাজার পরিবারের মধ্যে কোরবানির পশুর মাংস বিতরণ করা হয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে দুই কেজি করে মাংস দেওয়া হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘এ বছর কুরবানির ঈদে রোহিঙ্গাদের মধ্যে যথাসম্ভব মাংস বিতরণ করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত বিভিন্ন এনজিও, সংগঠন ও ব্যক্তিগত ভাবেও কোরবানির পশু দান করা হয়েছে।’