চোখের সর্বনাশ করছে চিনি! জেনে নিন করণীয়

প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯ | আপডেট: ৭:১৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৯
প্রতিকী ছবি

খাবার চিনি মনে করে ভুল বুঝবেন না। কথা হচ্ছে রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ে। ডায়াবেটিসের প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে ক্রমশ, তাতে রক্তে চিনির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে। যুক্তরাষ্টের ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, রক্তে চিনির বাড়তি পরিমাণ ধ্বংস করছে চোখের আরাম এবং সেটা করছে অজান্তে।

চিকিৎসকদের মতে, তলে তলে শরীরের সর্বনাশ ডেকে আনছে রক্তে শর্করা। শরীরের সব প্রত্যঙ্গের পাশাপাশি চোখেরও৷ কেউ কেউ অবশ্য টাইপ-২ ডায়াবেটিস, অর্থাৎ পরিণত বয়সে যে ডায়াবেটিস হয় তা নিয়ে ১৭-১৮ বছর কাটানোর পরও তেমন কোন জটিলতায় ভোগেন না। জিনের কারণেই তাদের চোখ, কিডনি মোটামুটি ঠিকঠাক থাকে৷

কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে মোটামুটি বছর পাঁচেক পর চোখের নার্ভ বা রেটিনা খারাপ হয়ে দৃষ্টিশক্তি লোপ পেতে শুরু করে, যাকে বলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি৷ যদি ইনসুলিন নির্ভর হন, সে ক্ষেত্রে এই আশঙ্কা আরও বাড়ে৷ টাইপ-১ ডায়াবেটিসে (বাচ্চাদের যে ডায়াবেটিস হয়) ভুগলে, ১৫ বছর বয়সের মধ্যে ৯৮ শতাংশ বাচ্চা চোখের সমস্যায় ভুগতে শুরু করে৷

রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকলে এই রোগ ঠেকিয়ে রাখা যায় বহু দিন৷ আর শরীরে জটিলতাও কম হয়৷ গ্লাইকেটেড হিমোগ্লোবিন বা এইচবিএ১সি সাতের নীচে রাখতে পারলে খুব ভাল৷ সাত-আটের মধ্যে থাকলেও এতটা সুবিধা নেই৷ আট-নয় হলে তখন চোখের অবস্থা দ্রুত জটিল হতে থাকে৷ নয়ের বেশি হলে তো কথাই নেই! সঙ্গে হাইপ্রেশার, হাইকোলেস্টেরল- ট্রাইগ্লিসারাইড থাকলে বিপদ বাড়তেই থাকে।

ডায়াবেটিক আক্রান্ত মহিলারা অন্তঃসত্ত্বা হলে রেটিনোপ্যাথি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে৷ আবার তার আগে থেকেই যদি এই রোগ থেকে থাকে, তাহলে ওই সময় বিভিন্ন রোগের সঙ্গে চোখের সমস্যা আরও বাড়তে থাকে৷ ওবেসিটি থাকলেও নানান ঝামেলা উপস্থিত হয়।

এ অবস্থায় কি করবেন তা জেনে নিন-

* টাইপ-১ ডায়াবেটিস হওয়ার ৫ বছর পর থেকে প্রতিবছর চোখের রেটিনা, কিডনি ও নার্ভ পরীক্ষা করে দেখতে হয়৷ টাইপ-২ হলে শুরু থেকেই প্রতিবছর পরীক্ষা করার নিয়ম৷

* রেটিনায় গোলমাল হলে ডাক্তার লেসার দিয়ে চিকিৎসা করেন৷ কখনও যদি কিছু ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়৷ এতে রোগ খুব ভালভাবে আয়ত্তে থাকে৷

* ডায়াবেটিস, হাইপ্রেসার, হাই কোলেস্টেরল ও মেদবাহুল্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে এ নিয়ে আর চিন্তার তেমন কিছু থাকে না৷ তাই নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি, ওষুধ খেয়ে ও নিয়মিত পরীক্ষায় নিজেকে সুস্থ রাখুন।