‘চোখ খুলুন সুচি, হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করুন’

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ১:০৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সুচিকে দু’চোখ খোলার আহ্বান জানিয়ে মিয়ানমারে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র্যাপোর্টিউর ইয়াংহি লি বলেছেন, ম্যাডাম স্টেট কাউন্সেল আপনার চোখ খুলুন। শুনুন। হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করুন (রোহিঙ্গাদের কথা)। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগে আপনার নৈতিক কর্তৃত্বকে ব্যবহার করুন।

মঙ্গলবার মানবাধিকার কাউন্সিলকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন ইয়াংহি লি।

লি জানান, মিয়ানমারের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের। সুচির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির নির্বাচনের পর প্রায় চার বছরে তিনি ও অন্যরা এ ধরণের কিছু দেখার আশা করেন নি ।

তিনি বলেন, ‘আমি স্টেট কাউন্সিলরের কাছে জানতে চাই, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক মিয়ানমারের জন্য তার অবিরাম লড়াইয়ে পর আজকের মিয়ানমারে তিনি সত্যিকারার্থে কী কামনা করেন? আমি আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি ম্যাডাম স্টেট কাউন্সিলর, আপনার চোখ খুলুন, শুনুন, অন্তর দিয়ে অনুধাবন করুন এবং দেরি হওয়ার আগেই দয়া করে আপনার নৈতিক কর্তৃত্ব ব্যবহার করুন।’

লি জানান, আন্তর্জাতিক নিন্দা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নিপীড়ন বন্ধে মিয়ানমার কিছুই করে নি। ২০১৭ সালের আগস্টের আগে রাখাইনে বাস করা রোহিঙ্গারা যে চরম পরিস্থিতিতে জীবনধারণ করেছে তাদেরকে এখনো সেই পরিস্থিতি বেঁচে থাকতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় অস্বীকার করা হচ্ছে, নিয়মিত সহিংসতার মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছে না এবং খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, জীবনধারণ ও সেবা পাচ্ছে একেবারেই কম।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিলম্বে মিয়ানমার বাংলাদেশকে যে দোষারোপ করছে তা ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন লি।

জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত বলেন, ‘মিয়ানমার দাবি করছে তারা সফল প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং যে কোনো ধরণের বিলম্বের জন্য তারা বাংলাদেশকে দোষারোপ করছে। তবে আমার কাছে যে তথ্য রয়েছে তাতে বিপরীতটাই সত্য।’

লি জানান, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া রাখাইনে ৩৪টি শিবিরের যে ছবি পাওয়া গেছে তাতে মিয়ানমারের সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। মিয়ানমার হয়তো বাকী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এবং যারা ফিরতে ইচ্ছুক তাদেরকে আটক করতে চায়। যে ৩৯২টি গ্রাম সেনা অভিযানে ধ্বংস হয়েছে তার মধ্যে ৩২০টির পুর্নগঠনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায় নি। এসব গ্রামের ৪০ শতাংশই মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে কিছু গ্রাম ধ্বংস করা হয়েছে, এমনকি ২০১৯ সালেও এ ঘটনা ঘটেছে।