ছাত্র বিক্ষোভে একাত্মতা : ব্যাপক তোপের মুখে ভিপি নুর

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৫০:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৯

রাজধানীর নর্দ্দায় বাসচাপায় সহপাঠীর মৃত্যুর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করতে গিয়ে একাংশের তোপের মুখে পড়েন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন নুরু ও তার সঙ্গীরা।

জানা যায়, দিনভর ছাত্র বিক্ষোভের মধ্যে বিকেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরেক নেতা রাশেদ খানকে নিয়ে আন্দোলনকারীদের কাছে যান ভিপি ভিপি নুরুল হক নুর।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্রধান গেইটে জেব্রা ক্রসিংয়ের যে জায়গায় আবরার নিহত হয়েছেন, সেখানে নুর যেতে চাইলে আন্দোলনকারীদের একটি পক্ষ তাকে বাধা দেয়। এ সময় নুরকে উদ্দেশ করে ‘চলে যান, চলে যান’ ও ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে চিৎকার করতে থাকেন তারা।

ওই স্লোগানের মধ্যেই মিনিট দুয়েক সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন নুর ও রাশেদ। পরে আন্দোলনকারীদেরই আরেকপক্ষ সেখান থেকে তাদেরকে বের করে নিয়ে যান।

এ সময় সড়ক বিভাজকের উপর আন্দোলনকারীদের তৈরি করা অস্থায়ী মঞ্চ থেকে তাদের প্রতিনিধি মাঈশা নূর ঘোষণা দেন, ‘আমরা নুরকে অ্যাকসেপ্ট করছি না’।

নুর তখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হবে। আপনারা সচেতন থাকবেন। আপনারা আপনাদের আন্দোলন করবেন। কোনো প্রয়োজন হলে আমাদের জানাবেন। আমরা আপনাদের সাথে আছি।’

আন্দোলনরতদের নিয়ে কোনো ‘কূটকৌশল’ করা হলে ছাত্রসমাজ তার ‘দাঁতভাঙা জবাব দেবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে কোটাবিরোধীসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন আন্দোলনে থামাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন নুরুল হক নুর বলেন, ‘ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় রাষ্ট্র বর্বর ভূমিকা পালন করেছে। রাষ্ট্রের সমর্থনে হেলমেটবাহিনী হামলা করেছিল কোটা সংস্কার আন্দোলনে। পুলিশি নির্যাতন হয়েছিল।’

গত বছর অগাস্টে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান নুর।

তিনি বলেন, ‘যখনই সড়কে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আমাদের সামনে কোনো তথাকথিত তদন্ত কমিটি চাই না।’

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর প্রগতি সরণীতে সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) চাপায় মারা যান বিইউপির শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরী। তিনি প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রগতি সরণিতে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। দুপুরে সেখানে সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসেও আগুন দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম সকালে শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে তুলতে গিয়েও ব্যর্থ হন। পরে বিকেলে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করতে যান ডাকসু ভিপি নুর।

সবশেষ সন্ধ্যায় দিনের মতো বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষার্থীরা। তবে আগামীকাল বুধবার আবার সড়কে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে যান তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- আবরারকে চাপা দেওয়া বাসের চালককে ১০ দিনের মধ্যে ফাঁসি দিতে হবে, সুপ্রভাত বাসের রুট পারমিট বাতিল করতে হবে, সিটিং সার্ভিস বন্ধ করতে হবে, বাস স্টপেজের ব্যবস্থা করতে হবে, চালকদের ছবি ও লাইসেন্স গাড়িতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করতে হবে, প্রতিটি জেব্রা ক্রসিংয়ে সিসি ক্যামেরা রাখতে হবে এবং ট্রাফিক পুলিশের ‘দুর্নীতি’ বন্ধ করতে হবে।