‘ছি: ছি: ছি:! পরপর ৩টা গান একই সুর’

টিবিটি টিবিটি

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:০৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ১:০৬:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮

টিবিটি বিনোদনঃ’অপরাধী গান’ যারা শুনেছেন তারা আরমান আলিফকে চিনে থাকবেন। আর বলা যায় অপরাধী শোনেনি এমন কমই পাওয়া যাবে। সামান্য একটি গান মানুষকে এতটা ছুঁতে পারে তা আরমানের অপরাধী গান থেকেও বোঝা যায়।

বলতে গেলে এত এত জনপ্রিয় তারকাদের গান বাদ দিয়ে, লাখ লাখ টাকার মিউজিক ভিডিও বাদ দিয়ে একটা সাদামাটা গান মানুষকে এতটাই ছুঁয়েছে যে গানটির ভিউ এখন দশ কোটিরও বেশি। যা রীতিমত বিস্ময়।

ইউটিউবে বাংলাদেশের সব রেকর্ড ছিন্নভিন্ন করে দেয়া গান হয়ে গেল ‘অপরাধী’। আর এত বিখ্যাত গানের শিল্পীকে কি আর পিছনে তাকাতে হয়। তাকে নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

আর এর ফলেও করে ফেললেন পর পর তিনটি গান। জি সিরিজ থেকে ‘নেশা’, সিএমভি থেকে ‘বেঈমান’ এবং ‘কার বুকে হাসো’। তবে এই গান তিনটি নিয়েই চলছে তুমুল বিতর্ক, আর তার কারণ গতানুগতিক একই সুর, একই কথা। একই ধাঁচের গান গেয়ে ভক্তদের মন থেকে উঠে যাচ্ছেন তিনি ।

এছাড়া সংগীতাঙ্গনের মতে, গান এমন একটি জিনিস যেটা কালের পর কাল থেকে যায়। এমন গান কেন গাইবো যার সুর মানুষ একসময় ভুলেই যাবে। মানুষকে মনে রাখানোর মত কিছুই নেই গানে। আছে শুধুই কিছু আবেগ। যা বাতাসের মত কিছুদিন পরে উড়েই যাবে। এমনকি এমন গানের ভবিষ্যত আসলে কি? তাকে জনপ্রিয়তা ও হিটের আশায় একঘেয়েমি সুরের শিল্পী তৈরি করা হচ্ছে, এমনটাই মন্তব্য সংগীতাঙ্গনের মানুষদের।

এদিকে, পর পর তিনটি গান গেয়ে দর্শকদেরও সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে আরমানকে। মানুষের ভালবাসা যেমন কুড়িয়েছেন তেমনি ঝুড়িতে জমছে ভক্তের কটু কথাও। তাছাড়া অপরাধী গানের সুর যেন পিছু ছাড়ছে না আরমানেরও। তার গান শুনলে যে কেউ বুঝবে অপরাধীর সঙ্গে তার আগের গানগুলোর কি পার্থক্য!

স্বভাবতই প্রশ্নটা বারবার আসছে, আরমান আলিফ আর কয়টি গান গাইবেন ‘অপরাধী’র সুরে? এই একটি গানের সুরের বাইরে আর কিছু ভাবতে পারছেন না? যদি এমনটাই হয় তবে তার গান ছেড়ে দেয়া উচিত। তাকে বাংলা গানের ভুবনে অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখবে ‘অপরাধী’ গানটি। সেই ইমেজটাকে তিনি কেন নষ্ট করছেন নিজের গায়কীর উপর জোর জুলুম করে!

এদিকে ইউটিউবের কমেন্ট সেকশনে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ছি: ছি: ছি:! পরপর ৩টা গান একই সুরে গেয়ে বাংলার মান সম্মান শেষ করে দিচ্ছ ভাই। তোমার আর গান রিলিজ করার দরকার নেই। ১০ হাত দূরে গিয়া হিরো আলমের সাথে মুড়ি খাও।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘গান ভাল কিন্তু ভাই একই সুর! সুর পরিবর্তন করে গান, নাহলে হারিয়ে যাবে।’

এরকম আরো একজন বলেন, ‘ভাই এক সুর আর কত গান করবে। একই সুর কতদিন চালাবে।। নাকি এই সুর ছাড়া আর কোন সুর জানা নেই। আবার পরিবর্তন কর নাহলে গান করো না আর। ভীষণ বোরিং।’

এরকম ভাবে ভক্তের ক্ষোভের কারণ হওয়া থেকে অপরাধীর ইমেজ অনেক ভাল। কারণ দর্শক একই সুরের অনেক গান নয়, এক গানকেই ভালবাসবে। তবে এরকম গানের জন্য শুধু শিল্পীর একার নয় দায় বর্তায় সংগীতায়োজন প্রতিষ্ঠানগুলোরও। তাদের এসব ব্যাপারে সচেতন হওয়া দরকার। মানুষ যেন গান না ভুলে যায়, গানকেই যেন ভালবাসে।