ছেলেকে কামড়েছে বিষধর সাপ, ভেলায় ভাসাল পরিবার

প্রকাশিত: ৩:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ৩:৫৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮

বিষধর সাপে কামড়ানোর পর ছেলেকে নেতিয়ে পড়তে দেখেও তাকে বাঁচানোর জন্য শেষ চেষ্টা করতে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাননি বাবা-মা। কোনো চিকিৎসকের কাছেও যাননি। অথচ, তারা বিশ্বাস করেন কলার ভেলায়!

ভারতের কালীগঞ্জের ফরিদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলতলা গ্রামে গত রবিবার রাতে ১২ বছরের সূর্য রায় মারা যায় বিষধর সাপের ছোবলে। বাবা-মা দিবাকর ও অনিমা রায়ের দাবি, কাটোয়া হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে যাওয়ার পথেই তারা বুঝতে পারেন, সূর্য মারা গেছে।

সে কারণে হাসপাতালে না গিয়ে মাঝপথ থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। সোমবার সকালে কলার ভেলা সাজিয়ে তাতে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন ছেলের দেহ। তাদের আশা ছিল, মঙ্গলকাব্যের লখিন্দরের গল্পের মতো তাদের ছেলেও ভেলায় ভাসতে-ভাসতে বেঁচে উঠবে।

বুধবার সেই ভেলা গিয়ে আটকায় হুগলি জেলার চন্দননগরের রানির ঘাটে। বালকের মরদেহে ততক্ষণে পচন ধরতে শুরু করেছে। সেখান থেকেই খবর দেওয়া হয় নদিয়া পুলিশকে।

চিকিৎসক, যুক্তিবাদীদের একাংশ হাসপাতালে না গিয়ে সূর্যকে নিয়ে বাবা-মায়ের বাড়ি ফিরে আসার ঘটনায় স্তম্ভিত। এক চিকিৎসক বলেই ফেলেন, রোগী মারা গেছে কিনা সেটা তো চিকিৎসক পরীক্ষা করে বলবেন, সেটা সাধারণ লোকের পক্ষে বোঝা সেভাবে সম্ভব নয়।

হয়তো ছেলেটির দেহে তখনো প্রাণ ছিল। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অ্যান্টি স্নেক ভেনাম দিয়ে শেষ চেষ্টা করা যেত। সেই সুযোগটা তার নিজের বাবা-মা দিলেন না। অথচ কলার ভেলায় আস্থা রাখলেন!

এর কারণ কি সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারানো? হাসপাতালে গেলে অ্যান্টি স্নেক ভেনাম মিলবে না, রেফার হওয়াটাই ভবিতব্য, এটা ভেবেই কি শেষ চেষ্টার জন্য আর হাসপাতালে যাননি দিবাকর ও অনিমা?

কালীগঞ্জের বাড়িতে বসে বিলাপ করতে করতে অনিমা বলেন, অত কিছু ভাবিনি। কাটোয়া হাসপাতাল যাওয়ার পথে ছেলেটা তো হাতেই মরে গেল। আমরা সবাই তো দেখলাম। তখন আর হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে গিয়ে লাভ কি? বরং অলৌকিক তো অনেক কিছুই হয়। ধর্মে নাকি আছে যে সাপে কামড়ে মৃত মানুষকে কলার ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়ার পরে বেঁচে উঠেছে।

তিনি আরো বলেন, ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় আমরাও তাই করেছিলাম। কিন্তু হলো না।