ছেলেধরা সন্দেহে এবার পাগলিকে আটকালো এলাকাবাসী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৩৭:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০১৯

সোমবার সন্ধ্যায় পাবনার ঈশ্বরদীর সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের পূর্ব পাড়া গ্রামে ছেলেধরা সন্দেহে এক পাগলিকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে তাকে ঈশ্বরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওইদিন মাগরিবের নামাযের পর প্রায় ৪০ বছর বয়সী এক নারী এলোমেলো অবস্থায় পূর্বপাড়া গ্রামের জনৈক আক্কেল প্রামাণিকের বাড়িতে ঢুকে অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকে।

ওই পাগলি গৃহকর্তির বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে গলা কেটে নেয়ার হুমকি দেয়। এতে আক্কেল প্রামাণিকের স্ত্রী ভীত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে আশেপাশের লোকজন এসে পাগলিকে ধরে ফেলে।

এসময় ওই নারীর একটি ছিন্নভিন্ন ব্যাগে বিভিন্ন ধরনের কিছু শুকনো খাবার, একটি চাকু ও টেপ পাওয়া যায়। চাকু ও টেপ দেখে লোকজন তাকে‘ গলা কাটা ছেলেধরা’ বলে ধারণা করে।

এই খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হাজার হাজার মানুষ সমাবেত হয় এবং ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী ঈশ্বরদী থানায় খবর দিলে থানার উপ- পরিদর্শক( এসআই) শাহীন রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

এসআই জানান, ধৃত নারী আসলে পাগলি। সে পানি খাওয়ার জন্য ওই বাড়িতে ঢুকেছিল। সে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের চরভাঙ্গাবাড়িয়া ঘোষপুর গ্রামের মৃত রওশন শেখের মেয়ে মিনারা। তার পলিথিনের ব্যাগে পাবনা মানসিক হাসপাতালের প্রেসক্রিপশনও রয়েছে।

প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মিনারার ব্যাগে মানসিক রোগের চিকিৎসার ঔষুধও পাওয়া গেছে। তার আচরণ অসংলগ্ন হলেও নাম ,ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য ঠিকঠাক মতো বলতে পারছে বলে এসআই শাহীন জানিয়েছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, তারা গুজবে কান না দেয়ার জন্য এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার জন্য ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি জনগনকে অহেতুক আতঙ্কিত ও বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাকতে বলেন।