সেই অসহায় মা-ছেলের পাশে দাঁড়ালো ইউএনও : ওয়াইডিএফ

টিবিটিতে সংবাদ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১ | আপডেট: ৮:০৪:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১

মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ প্রথম শ্রেণির জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক ইংরেজি পত্রিকা ‘ দি বাংলাদেশ টুডে (টিবিটি) ‘ তে তথ্য ও চিত্র প্রকাশের পর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রোগাটে ছেলে ও অতি বৃদ্ধ অসুস্থ মাকে দেখতে যান কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘ ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ‘ (ওয়াইডিএফ) এর চেয়ারম্যান আশিকুল ইসলাম চপল।

এসময় ইউএনও রাজীবুল ইসলাম খান দুইমাসের খাদ্য হিসেবে চাল, ডাল, লবণ, তেলসহ তৈজসপত্র দেন। এছাড়াও তাদের জরাজীর্ণ একমাত্র বসতঘরটি মেরামত বা বরাদ্দ স্বাপক্ষে নতুন ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন। অপরদিকে আশিকুল ইসলাম চপলও তাদের খাদ্য সহায়তা দেন এবং আধাঁপাকা টিনসেট ঘর নির্মাণের আশ্বাস দেন।

অসহায় মা ও ছেলেকে নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল টিবিটি’র অনলাইন সংস্কারণে ‘ অন্ধ ছেলের বাহুবলই ভরসা মায়ের, আর মায়ের দৃষ্টিতে হেটেই চলে তাদের জীবন ‘ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগের দ্রুততম মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এতেই বিষয়টি প্রথমে ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম এবং পরে ইউএনও’র নজরে আসে এবং তারা সার্বিক খোঁজ খবর নেন।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, টিবিটিতে সংবাদ প্রকাশের পর সরেজমিন খোঁজ খবর নিয়েছি। দুইমাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বর্তমান তাদের বসবাসের জরাজীর্ণ ঘরটি মেরামত বা বরাদ্দ স্বাপক্ষে নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের চেয়ারম্যান আশিকুল ইসলাম চপল বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর তাদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। তাৎক্ষণিক খাদ্য সহায়তা করা হয়েছে। সরকারিভাবে কোন উদ্যোগ নেওয়া না হলে আসন্ন রমজানের ইদের পর আধাঁপাকা ঘর নির্মাণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, খাদ্য সরবারহ অব্যাহত রাখা হবে।

উল্লেখ্য যে, অসহায় ওই মায়ের নাম সাহেরা খাতুন (৬৫)। তিনি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামের মৃত মরসুর আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী। আর হতভাগ্য অন্ধ ছেলের নাম তমিজ মোল্লা। বয়স পঁয়তাল্লিশ (৪৫)।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্ধ রোগাটে ছেলে বাম হাতে একটা ব্যাগ ও ডান হাত দিয়ে মায়ের বাম হাতেই কনুই ধরে রাখে। আর অসুস্থ বৃদ্ধা মা বাম হাতের আঙ্গুলের অংশ উলটিয়ে মাঝায় ভর দেয়।আর ডান হাতে একটি বাঁশের লাঠি ভর করে কুঁজা হয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এদোকান থেকে ওদোকান, এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি মানুষের দ্বারেদ্বারে হাফিয়ে হাফিয়ে ঘুরেঘুরে বেড়ান ।

সুন্দর এই পৃথিবীতে মানুষের অনেক আশা, চাওয়া – পাওয়া, স্বপ্ন, বাসনা, কামনা থাকলেও শুধু মুঠোভরে একবেলা খাবারের আসায় ভিক্ষাবৃত্তি করেন তারা।জীবন ধারনের জন্য দক্ষিণ ভবানীপুর গ্রামে সোয়া কাঠা জমির উপর ছোট্ট একরুমের একচালা টিনের ঘর, একটি রান্নাঘর, একটি টিউবওয়েল ও একটি স্যানিটারি ল্যাট্রিং রয়েছে।

সেখানে একরুমের ছোট্ট ঘরে ছোট্ট একটি চৌকিতেই ঘুমান মা ও ছেলে। দিনের অধিকাংশ সময় কাটে এই ছোট্ট টিনের ঘরে। আসরের আযান কানে বাজলেই তাদের এক ভিন্ন পৃথিবীতে নেমে আস কাল রাত। ঘরে খাবার থাকলে খাওয়া শেষে তড়িঘড়ি করে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন তারা। মাঝেমাঝে খাবার না থাকায় অনাহারেই রাত – দিন কাটে তাদের।