ছোট্ট এই প্রাণীর ভয়ে মরণাতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: 8:22 PM, December 9, 2019 | আপডেট: 8:22:PM, December 9, 2019

ছোট্ট এক প্রাণীর ছোবলে মারা যাচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মানুষ। দেখতে একেবারে ছোট মাকড়শার মতো প্রাণীটির নাম স্ক্রাব টাইফাস। রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরে এ  প্রাণীর কামড়ে সৃষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৪ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

গত বৃহস্পতিবার ডেবরা হাসপাতাল থেকে পশ্চিম মেদিনাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয় ১৪ মাসের প্রত্যুষা মিশ্রকে। রবিবারই তার হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালে একটি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় শিশুটিকে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তার।

হাসপাতালা কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে স্ক্রাব টাইফাসে। এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর হার্ট অ্যাটাক হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে  মুর্শিদাবাদ জেলায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগ। গত কয়েক মাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩০ জন সাগর দত্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, অজানা জ্বরের শতকরা ৩০ ভাগই হল স্ক্রাব টাইফাস। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সমস্ত জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছে স্ক্রাব টাইফাস নিয়ে নির্দেশিকা জারি করে স্বাস্থ্য দফতর। আক্রান্তদের আসল সংখ্যা জানার জন্য স্ক্রাব টাইফাস রোগী হাসপাতালে ভরতি হলেই তা স্বাস্থ্য ভবনকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ, শুক্রবার পরিস্থিতির পর্যালোচনায় বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকও ডাকা হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনে।

স্ক্রাব টাইফাস নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দফতরের জারিকৃত নির্দেশিকা অনুযায়ী রইল কিছু পরামর্শ:

কী হয় এ অসুখে?

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ঝোপঝাড়ে জন্মানো এক ধরনের মাকড়ের কামড় থেকে স্ক্রাব টাইফাসের জীবাণু শরীরে ঢোকার পর জ্বর আসে। দিন সাতেকের জ্বর আর বমির পর দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হয় শারীরিক জটিলতা। একে একে বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হতে থাকে। গোড়ায় চিকিৎসা না-হলে মৃত্যু অনিবার্য।

উপসর্গ

জ্বর, গায়ে ব্যথা, শরীরে কোনও অংশে সিগারেটের ছেঁকা খাওয়ার মতো দাগ (সব ক্ষেত্রে না-ও থাকতে পারে), আচ্ছন্ন অবস্থায় থাকা, বিভ্রম, চোখ, ঠোঁট লাল হয়ে যাওয়া, পা ফুলে যাওয়া। কখনও কখনও রোগের প্রভাব বাড়তে থাকলে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন।

ব্যবস্থাপনা

১) জ্বর পাঁচ দিনের বেশি স্থায়ী হলেই টাইফয়েড ও ডেঙ্গির পরীক্ষার সঙ্গে স্ক্রাব টাইফাসের পরীক্ষা
২) এই জ্বর আগে থেকে ঠেকানো সম্ভব নয়। কিন্তু, চিকিৎসা থাকায় আগেভাগে রোগ ধরা পড়লে রোগীর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাওয়া সম্ভব
৩) রাজ্যের ১৭টি কেন্দ্রে বিনামূল্যে স্ক্রাব টাইফাসের পরীক্ষা হয়
৪) অ্যাকিউট এনসেফালোপ্যাথি সিনড্রোম থাকলেই স্ক্রাব টাইফাসের পরীক্ষা