জঙ্গি দমনে রাজশাহীতে নামছে সিআরটি

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৪৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

রাজশাহী সংলগ্ন ভারতীয় সীমান্তে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে জঙ্গিরা। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) বেশ কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চল থেকে।

এরাই সীমান্তের বাসিন্দাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানেও থামছে না তাদের কার্যক্রম।

তবে জঙ্গিবাদসহ যে কোনো অপরাধ দমনে আসছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বিশেষ টিম। আমেরিকার বিখ্যাত বাহিনী সোয়াত টিমের আদলে গঠন করা হয়েছে ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) নামে দলটি।

নগর পুলিশ বলছে, জঙ্গি দমনে পুলিশের এই বাহিনী বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধসহ বড় ধরনের সহিংসতা মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে এ টিম। টিমের ২৪ সদস্যকে যে কোনো অপারেশন পরিচালনায় দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে।

আরএমপির মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম বলেন, ২৪ সদস্যের এ দলটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার। এছাড়া দুইজন করে সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও পুলিশের পরিদর্শক থাকবেন দলে।

এর পাশাপাশি থাকবেন পাঁচজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী সহকারী উপ-পরিদর্শক ও ১৩ জন চৌকষ কনস্টেবল। দল গঠন শেষ। যে কোনো সময় মাঠে নামতে প্রস্তুত বিশেষ এই দলটি।

তিনি আরও জানান, গত ৮ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত একমাস এ দলের সদস্যরা জর্ডানে ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যান্টি টেররিজম অ্যাসিসট্যান্স (এটিএ) তাদের তত্ত্বাবধান করেছে।

এ দিকে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তারা বলছেন, রাজশাহীর গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর আলাতুলি সীমান্তজুড়ে প্রায়ই জঙ্গিদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাদের ধরতে এপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলে কাঁটাতার পেরিয়ে জঙ্গিরা সহজেই চলে যান সীমান্তের ওপারে।

এখানকার সীমান্তপথে বছরজুড়েই মাদক পাচার হচ্ছে। আর এ সুযোগে জঙ্গিরা ভারত থেকে অস্ত্র, গানপাউডার, বিস্ফোরক ও গুলি আনছে। এই পথে জাল টাকাও ভারতে যাচ্ছে। এলাকা দুর্গম হওয়ায় অভিযানও চালানো যাচ্ছে না সময়মতো। তবে যে কোনো সময় এখানেও অভিযানে নামতে পারে সিআরটি।

এদিকে, ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁসা গোদাগাড়ী উপজেলার দক্ষিণ পাশের পদ্মার চরাঞ্চল সাহেবনগর, চর বয়ারমারী, চর নওশেরা ঘুরে জানা গেছে, এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। কিন্তু এ পেশার আড়ালে অনেকেই মাদক পাচার ও মানবপাচারে জড়িত।

দক্ষিণ-পশ্চিমের চর আলাতুলির কোদালকাঠি, পোলাডাঙ্গা ও বগচর এলাকা সীমান্ত অপরাধের স্বর্গরাজ্য। সীমান্তের সোনাইকান্তি ও খরচাকা এলাকা মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচারের অন্যতম রুট।

র্যাব-৫ এর মেজর এএম আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় আগের চেয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। মাঝেমধ্যেই এসব এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে।

জানতে চাইলে রাজশাহীর বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক শামীম মাসুদ আল ইফতেখার বলেন, সীমান্তে চোরাচালান ও জঙ্গি কার্যক্রম বন্ধে বিজিবি সব সময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

এ অঞ্চলে জঙ্গিবাদ দমনে সিআরটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদি আরএমপি কমিশনার একেএম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলটি জঙ্গিবাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি এ অঞ্চলে জঙ্গি কয়েকটি আস্তানার সন্ধানও মিলেছে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরএমপিতে বিশেষ এই বাহিনী গঠন করা হয়েছে।