জনপ্রিয় নারী প্রার্থীদের গুরুত্ব দেবে আওয়ামী লীগ

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৮ | আপডেট: ১:০৮:অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০১৮

কৌশলগত কারণেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের গুরুত্ব দেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। এমনিতেই নারীর ক্ষমতায়নে এটা জরুরি বলে মনে করছেন নীতি-নির্ধারকরা। আবার ভোটারদের বড় একটি অংশ নারী।

আর তারা যে স্বাভাবিকভাবেই নারী প্রার্থীদের প্রতি ঝুঁকবেন এটাই স্বাভাবিক। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন ৩০ থেকে ৫০-এ উন্নীত হয়েছে। সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ২২ জন নারী জনপ্রতিনিধিত্ব করছেন। সংসদের চারটি উচ্চপদের সবগুলোতেই নারীরা মেধা ও যোগ্যতার পরিচয় দেখাচ্ছেন।

কাজেই এবারের সংসদ নির্বাচনে সরাসরি আসনে নারীদের মনোনয়ন সংখ্যা বৃদ্ধির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তেমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং দলটির সংসদীয় বোর্ডের সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ। তিনি জানান, জাতীয় সংসদের এক-তৃতীয়াংশ নারী এমপি দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। যদিও তার দ্রুত বাস্তবায়ন সহজ হবে না, কিছুটা সময়সাপেক্ষ। ধাপে ধাপে যেতে হবে।

বিভিন্ন আসনে প্রভাবশালী নেতাদের ভীড়েও নারীরা কার্যকর কৌশল ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে চৌম্বক জনপ্রিয়তা গড়ে তুলেছেন। যেমন- এবার যেসব আসনে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের পদচারণা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম ময়মনসিংহ-৩ আসন।

গৌরীপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ময়মনসিংহ-৩, যা জাতীয় সংসদের ১৪৮ নম্বর নির্বাচনী এলাকা। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, সাবেক জনপ্রতিনিধি, এলাকার প্রভাবশালী কিংবা বিশিষ্ট সমাজসেবক আছেন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায়।

এঁদের মাঝেও নারী প্রার্থী হিসেবে বেশ আলোচিত বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য নাজনীন আলম। ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট পেয়ে গৌরীপুরে তিনি আলোচনায় ওঠে আসেন।

ওই সময় থেকেই তাঁর সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের যোগাযোগ ও সর্ম্পক গড়ে ওঠে। তখন থেকেই নিয়মিত জনসংযোগে ব্যস্ত তিনি। গত উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে দলের অন্য প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে তা প্রত্যাহারের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের মন জয় করেন। তাঁর প্রতি ভোটারদেরও একটা আলাদা আগ্রহ রয়েছে। এখানে জনপ্রিয়তা নিয়ে নিজের অবস্থানও ধরে রেখেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া ইসলাম ডলি।

এভাবে বিভিন্ন আসনেই সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের পছন্দের প্রার্থীতে পরিণত হয়েছেন অনেকেই। তাঁরা মনোনয়নের দৌড়েও বেশ এগিয়ে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তালিকায় আছেন রংপুর-৬ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, গাইবান্ধা-২ আসনের মাহাবুব আরা বেগম গিনি, যশোর-৬ আসনের ইসমত আরা সাদেক, বাগেরহাট-৩ আসনের হাবিবুন নাহার, বরিশাল-৫ আসনে বেগম জেবুন্নেছা আফরোজ, শেরপুর-২ আসনে মতিয়া চৌধুরী, মানিকগঞ্জ-২ আসনে মমতাজ বেগম, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে সাগুফতা ইয়াসমিন, গাজীপুর-৪ আসনে সিমিন হোসেন রিমি, গাজীপুর-৫ আসনে মেহের আফরোজ, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, চাঁদপুর-৩ আসনে ডা. দীপু মনি, সুনামগঞ্জ-২ আসনে জয়া সেনগুপ্তা, মৌলভীবাজার-৩ আসনে সৈয়দা সায়রা মহসীন।

আবার লক্ষীপুর-৪ আসনে আছেন আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, চাঁদপুর-৫ আসনে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নূরজাহান বেগম মুক্তা, ঢাকা-১৪ আসনে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সাবিনা আক্তার তুহিন এবং জামালপুর-২ আসনে মাহজাবিন খালেদ, হবিগঞ্জ-১ আসনে কেয়া চৌধুরী এবং ফেনী-২ আসনে রোকেয়া প্রাচী।

এক সমীক্ষা জানায়, তুলনার বিচারে পুরুষদের চেয়ে নারী ভোটারের ভোটই বেশি পড়ে। কাস্টিং ভোটের প্রায় ৬০% ভোটই নারী ভোটারের। এই বিপুল সংখ্যক ভোট টানতে নারী প্রার্থীদের সামনে আনাটা ইতিবাচক কৌশল বলেন মনে করেন বিশ্লেষক মহল। তাই খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীকে অন্তত ৫০ জন নারীকে দেখতে চান বলে দলের বিভিন্ন সূত্র জানায়। সুত্র: কালের কন্ঠ