জন্মদিনে ঠিকই বাড়িতে গেছেন, তবে লাশ হয়ে

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ | আপডেট: ৪:২৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮

টিবিটি মেট্রোঃউত্তম সরকার। ছিলেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই)। তার জন্মদিন ছিল আজ সোমবার। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিয়মিত বাড়িতে যেতে পারতেন না তিনি। জন্মদিনে ঠিকই বাড়িতে গেছেন, তবে লাশ হয়ে!

রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়া ঈগল পরিবহনের একটি বাস পুলিশের জিম্মায় ছিল। গতকাল রোববার জব্দ করা বাসটি নিয়ে থানায় ফিরছিলেন এসআই উত্তম কুমার।

তিনি ওই বাসের সামনে নিজের মোটরসাইকেলটি চালিয়ে আসছিলেন। হঠাৎ করে শাহআলীর রাইনখোলা ঢালে এই পুলিশ কর্মকর্তার মোটরসাইকেলকেই চাপা দেয় জব্দ করা বাসটি। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন উত্তম কুমার।

এসআই উত্তম কুমারের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার পশ্চিম বেতডোবা কর্মকার পাড়ায়। আজ সন্ধ্যার পর তার লাশ বাড়িতে আনার আনা হয়। পরে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শোকে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো এলাকা। স্ত্রী তমা রানী ও মা কামনা সরকারসহ স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে গোটা পাড়া। রাতে তাকে কালিহাতী কেন্দ্রীয় শশ্মানঘাটে সৎকার করা হয়।

মৃত ভজন সরকার ও কামনা রানী সরকারের দুই ছেলের মধ্যে উত্তম ছোট। বড় ছেলে দিপংকর সরকার সুমন ঢাকায় নাভানা গ্রুপে চাকরি করেন।

দিপংকর সরকার সুমন জানান উত্তম, ১৯৮৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন উত্তম সরকার। কালিহাতীর আরএস পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কালিহাতী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।

এরপর ভারতের বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে বিবিএ এবং ঢাকার ইবাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে এমবিএ পাশ করেন। ২০১২ সালে পুলিশের এসআই পদে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা, মোহাম্মদপুর এবং সর্বশেষ রূপনগর থানায় কর্মরত ছিলেন।

উত্তম কুমারের ভাই আরও জানান, উত্তম কুমার ২০১৪ সালে ঢাকার ধামরাইয়ের তমা রানী চৌধুরীকে বিয়ে করেন এবং তাদের উপমা সরকার নামের তিন মাসের একটা মেয়ে সন্তান রয়েছে।

আজ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে উত্তমের স্ত্রী তমা রানী ও মা কামনা সরকার বারবার মুর্ছা লেগে পড়ে যাচ্ছেন। তমা রানী বিলাপ করতে করতে বলছেন, ‘আমি তিন মাসের মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাব, আমার কী হবে, আমাকে কে দেখবে?’

উত্তমের মা কামনা সরকার বলেন, ‘আমার বাবাকে (উত্তম সরকার) জন্মদিনেই পোড়ান হলো। আমি এই বেদনা সইতে পারছি না, আমার বুক ফেটে যাচ্ছে। আমি হত্যকারীর ফাঁসি চাই।’

উত্তমের লাশ সন্ধ্যার পর কালিহাতীর বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে একবার দেখার জন্য বাড়িতে ছুটে আসেন এলাকার শতশত মানুষ। উত্তমের বন্ধুরা জানান, উত্তম অনেক মেধাবী এবং ভালো মনের মানুষ ছিলেন।