জন্ম দেয়ার অপরাধে আইনজীবী পিতামাতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান ছেলে!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯ | আপডেট: ১২:০৬:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯
ছবিঃ সংগৃহীত

নিজের জীবনের প্রতি বিরক্ত এক ভারতীয় যুবক তার আইনজীবী পিতামাতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান। কারণটা হলো কেন অনুমতি না নিয়েই তাকে জন্ম দেওয়া হল?

রাফায়েল স্যামুয়েলের (২৭) অভিযোগ, নিজেদের বিনোদনের জন্য তাকে জন্ম দিয়ে বাবা-মা এখন তাকে বিপদেই ফেলেছেন। জীবনভর তাকে যাতনা ভোগ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, জন্ম নেওয়াটা আমাদের সিদ্ধান্ত নয়। তাই শুধু ছেলেবেলা নয় আমাদের সারাজীবনের ভরণপোষণের দায়িত্ব বাবা-মায়ের ওপরে বর্তানো উচিৎ। পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কে ফাঁটল ধরলে এমনভাবে কেউ কেউ ভেবে থাকে। তবে এই যুবকের দাবি, সম্পর্কে তাদের চিড় ধরেনি।

স্যামুয়েল মা তার ছেলের এমন অদ্ভূত চিন্তা সম্পর্কে বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনই আইনজীবী হওয়ায় তাদের সন্তান যুক্তির খেলাটা খেলছে। ছেলের এমন জটিল বিচার-বুদ্ধি তিনি মেনে নিয়েছেন।

জগতের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক রীতিনীতি ও মূল্যবোধকে ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলে স্যামুয়েল জানান, সবাই যেসব পরিচিত কথা বলে তা মিথ্যা। মানুষ আর মানবতা না থাকলে পৃথিবী ও অন্য প্রাণিরা আরও সুখী হবে। মানবতা বলতে কিছু থাকলে পৃথিবীতে এত মানুষকে কষ্ট ভোগ করতে হতো না। পৃথিবীতে মানুষের থাকা না থাকে বিশেষ কোন অর্থ বহন করে না।

পাঁচ বছর বয়স থেকেই এসব বিষয় তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে বলে জানান স্যামুয়েল। তিনি বলেন, সে সময় আমি একদিন হঠাৎ স্কুলে যেতে চায়নি। বাবা-মা আমাকে পীড়াপীড়ি করতে থাকে। আমি বাবাকে হঠাৎ জিজ্ঞেস করলাম, তোমরা আমাকে জন্ম দিয়েছ কেন?

বাবা আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। তিনি তখন উত্তর দিতে পারলে আমি হয়তো কখনো এভাবে ভাবতাম না। এসব বিষয়ে অন্য বাবা-মায়েদের সঙ্গে আলোচনা করেন বলে জানান স্যামুয়েল। তবে স্যামুয়েলের বাবা-মা তাকে এসব বিষয়ে বাধা দেননি। তার মা জানিয়েছেন, সম্ভব হলে তার বা তার সঙ্গে জন্মের আগে দেখা করতেন। এবং মা শুধুই হেসেছেন।

স্যামুয়েল বলেন, গত ছয় মাস আগে একদিন সকালের আহার সারতে সারতে আমি মাকে বলি, আমাকে জন্ম দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমি তাদের আদালতে দাঁড় করাতে চাই। আমার আইনজীবী মা তখন জানান, আদালতে আমিও তোমাকে ছেড়ে কথা বলবো না।কোনো আদালত স্যামুয়েলের অভিযোগের শুনানি করতে রাজি হবেন কিনা তা নিয়েও আশঙ্কায় আছেন স্যামুয়েল। তিনি বলেন, তবে আমি এই বিষয়টি সবার সামনে আনতে চাই।

স্যামুয়েল তার ভাবনার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবাইকে জানিয়েছেন। অনেকে তার পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। কেউ কেউ আবার বিরুপ মন্তব্য জানিয়ে বলেছে, তাকে আত্মহত্যা করতে! আবার কোন কোন বাবা-মা মন্তব্য করেছেন, তাদের ছেলেমেয়েরা যদি এ পোস্ট দেখে তবে তারাও তো বিগড়ে যেতে পারে!