জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মাকে ধাক্কাপিটা করলো ছেলে!

প্রকাশিত: ৫:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯ | আপডেট: ৫:২৩:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৯
ছবি: টিবিটি

মোঃ সাদিক-উর রহমান শাহ্ (স্কলার), নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীতে ভাইয়ের সাথে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উত্তেজনায় মাকে প্রকাশ্যে ধাক্কাপিটা করলো ছেলে।

স্থানীয় ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার এমন আচরণে বাধা দিতে ভয় পাচ্ছেন বয়সের ভাড়ে ন্যুইয়ে পড়া স্বীয় পিতা মো: আব্দুল গনি। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার সদর উপজেলার পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের চেংমারী দিঘলটারী গ্রামে।

আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধি’র অনুসন্ধানী মুলক ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার আব্দুল গণি’র ছেলে গোলাম মোস্তফা ও মোস্তাফিজুরের মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ডিসি অফিসের এম,এল,এস,এস গোলাম মোস্তফা বল প্রয়োগ করে মোস্তাফিজারে ক্রয়কৃত জমির ওপর দিয়ে চলাচলের রাস্তা তৈরী করতে গেলে, উভয় পক্ষ্যের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়।

মোস্তফা ও মোস্তাফিজার’র মা-বাবা সহ স্থানীয়রা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। এর ফলে, গোলাম মোস্তফা উত্তেজিত হয়ে তার গর্ভধারিনী মাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দসহ ধাক্কাপিটা করে। আব্দুল গণি’র স্ত্রী মোছা: মহিলা খাতুন সাংবাদিকদের দেখে হাউ-মাউ করে কেঁদে কেঁদে অভিযোগ করে বলেন, “আমার চার ছেলে, মহসিন, মোস্তাকিন, মোস্তফা ও মোস্তাফিজার।

সবাই তাদের নিজ নিজ সংসার নিয়ে ব্যস্ত। মোস্তফা নীলফামারী ডিসি অফিসে চাকুরী করায় বল প্রয়োগ করে জোর পুর্বক মোস্তাফিজারের ক্রয় করা সম্পত্তির ওপর দিয়ে চলাচলার রাস্তা তৈরী করার চেষ্টা করে। এতে আমি ও আমার স্বামীসহ স্থানীয়রা বাধা দিলে, মোস্তফা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং উত্তেজিত হয়ে আমাকে ধাক্কাপিটা করে।

ইতিপূর্বেও সে আমার স্বামীর কাছে কৌশলে একাই আমার স্বামীর জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আমাকে ও আমার স্বামীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে, আমার স্বামী ডিসি অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ করে”।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “যাকে আমি আমার রক্ত পানি করে দীর্ঘদিন গর্ভে লালনের পর মৃত্যুযন্ত্রনার মধ্য দিয়ে, তাকে পৃথিবীর মুখ দেখিয়েছি, সেই ছেলেসহ তার স্ত্রী-সন্তানরা আমাকে ভরণ-পোষণ তো দুরের কথা, আমাকেই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, এমনকি কখনো, কখনো মারার জন্যও উদ্যত হয়।

সে প্রভাব খাটিয়ে মোস্তাফিজারের জমি জবর দখল করার হীন মানসে বিভিন্ন ভাবে তাকে (মোস্তাফিজারকে) সহ তার স্ত্রী সন্তানকে হয়রানী করছে, আমি এর বিচার চাই”। বয়সের ভাড়ে ন্যুইয়ে পড়া এই বৃদ্ধার অশ্রুতে ভিজে রয়েছে ওই এলাকাটি। বর্তমানে ওই বৃদ্ধার অন্যান্য ছেলে-মেয়েদের আর্থিক সহায়তায় মোস্তাকিন’র জমিতে একটি কাচাঘর নির্মাণ করে, সেখানে বসবাস করছেন তিনি।

এ বিষয়ে নীলফামারী ডিসি অফিসের এম,এল,এস,এস মো: গোলাম মোস্তফা’র সাথে কথা হলে, তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবেন না বলে সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দিয়ে বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান”।

নীলফামারী ডিসি অফিসের এম,এল,এস,এস গোলাম মোস্তাফার ‘একাধিক বিয়ে’ সহ বিভিন্ন তথ্যচিত্র নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব দেখতে চোখ রাখুন আমাদের পত্রিকায়।