জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একশ আসনে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে : ইসি সচিব

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৪২:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় একশ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। বলেছেন, সে লক্ষ্যে দেড় লাখ কেনার জন্য ইভিএম কিনতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এসময় ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।

ইসি সচিব বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার পরিকল্পনা আছে ইসির। সে লক্ষ্যে দেড় লাখ ইভিএম কেনার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’

‘নির্বাচনের আগে আইন পাস, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতসহ সবকিছু ঠিক থাকলে সংসদ নির্বাচনের এক-তৃতীয়াংশ আসনে ইভিএম ব্যবহার করার মতো সক্ষমতা থাকবে ইসির।’
হেলালুদ্দীন বলেন, ‘তবে ইভিএম ব্যবহার করার আগে ভিত্তিস্বরূপ আইন দরকার। ৩০ আগস্ট কমিশন সভায় আরপিও সংশোধন-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তারপর সেটা ভেটিংয়ের (যাচাই-বাছাই) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আইন পাস হলে তার পরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবে কমিশন। তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে কি হবে না। আর তা ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের পরেই সারা দেশের সব উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানেও ইভিএম ব্যবহার করা হবে।’

হেলালুদ্দীন বলেন, ‘আগামী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জানুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের স্কুল শুরু হয়ে যাবে। সে সময় নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হবে। তা ছাড়া ডিসেম্বরের শেষ দিকে শিক্ষার্থীদের ছুটি থাকে।’

‘ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে অনুযায়ী নির্বাচনী সব প্রস্তুতি গ্রহণ করে কাজ করে চলেছে ইসি। নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে ৮০ ভাগের বেশি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।’
বিএনপির আপত্তি থাকলেও নির্বাচন কমিশন ইভিএমে ভোটগ্রহণকে সুবিধাজনক মনে করে। এখানে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র মেশিনে পাঞ্চ করেই ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। ফলে একজনের ভোট অন্য জনের দিয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। কেন্দ্র দখলেরও কোনো প্রশ্ন আসে না।

এ কারণে কমিশন ভোটগ্রহণে ইভিএমকে জনপ্রিয় করতে চাইছে আর ধীরে ধীরে এর ব্যবহার বাড়িয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর করতে চাইছে।

উন্নত বিশ্বে ভোট নিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইভিএম ব্যবহার করা হলেও বাংলাদেশে এই যন্ত্রটির ব্যবহার শুরু হয়েছে সম্প্রতি।

২০১০ সালে চট্টগ্রাম এবং ২০১২ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে একটি করে কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নেয়া হয়েছিল। তবে তখন যে যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, সেটিতে ত্রুটি পাওয়ায় তখনকার নির্বাচন কমিশন আর এটি নিয়ে আগায়নি।

তবে বর্তমান নির্বাচন কমিশন ইভিএমের ব্যবহার বাড়াতে চাইছে। এখন যেসব যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলো ত্রুটিমুক্ত বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত ডিসেম্বরে রংপুর সিটি নির্বাচনে একটি, ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটে দুইটি, ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটে ছয়টি কেন্দ্রে ব্যবহার করা হয় ইভিএম। এছাড়া বরিশাল সিটি নির্বাচনে ১১ কেন্দ্রে ব্যবহার করা হয় ইভিএম।

প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভোটাররা ইভিএম নিয়ে উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন। আর এসব কেন্দ্রে ভোট নিয়ে কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি, ব্যালটের ভোটে বিভিন্ন কেন্দ্রে গোলযোগ হলেও এসব কেন্দ্রে তা দেখা যায়নি।

নির্বাচন কমিশন এই যন্ত্রটির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ভোটারদের অভ্যস্ত করে জাতীয় নির্বাচনেও ব্যবহার করতে চায়। তবে বিএনপির যন্ত্রটি নিয়ে আপত্তি আছে। যদিও কমিশন মনে করে, ইভিএমের ব্যবহার বাড়ালে এই আপত্তি থাকবে না।