জাতীয় হারের চেয়েও বেশি খুলনায় করোনায় আক্রান্তের হার

প্রকাশিত: ৬:৫৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০ | আপডেট: ৬:৫৫:অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

সারাদেশের তুলনায় খুলনা জেলায় করোনা পজিটিভ হওয়ার হার উদ্বেগজনক। শুরু থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষার হিসেবে খুলনা জেলায় করোনা পজিটিভ হওয়ার হার ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর গত ১৮ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হিসেবে এ জেলায় করোনা পজিটিভ এর হার ৩৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। যদিও জাতীয় পর্যায়ে নমুনা পরীক্ষা হিসেবে করোনা পজিটিভ এর হার হচ্ছে ২২ দশমিক ০৫ শতাংশ।

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সারাদেশের গড় হারের তুলনায় খুলনা জেলায় করোনায় আক্রান্তের হার দশমিক ৬৯ শতাংশ বেশি। আর গত ১১ দিনের হিসেবে জাতীয় হারের চেয়ে খুলনার হার ১৫ শতাংশ বেশি।

খুলনার সিভিল সার্জন অফিস ও জাতীয় পর্যায়ে ঘোষিত করোনার প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

খুলনার সিভিল অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ২৮ জুন পর্যন্ত খুলনা জেলায় ৭ হাজার ৮৬৬টি নমুনা পরীক্ষা হয়। এর মধ্যে পজিটিভ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৭৮৬ জনকে। যা শতকরা ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ সময়ে মারা গেছেন ২১ জন। শনাক্ত হিসেবে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ১৭ শতাংশ।

১৮ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত ১১ দিনে খুলনা জেলায় ৩ হাজার ৫০৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ১ হাজার ২৯৮ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়। যা ৩৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। এ সময়ে মারা গেছেন ১২ জন। যা দশমিক ৯২ শতাংশ। এ অবস্থা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনসহ সচেতনমহলে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করছে।

সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, গত ২৭ মে পর্যন্ত খুলনা জেলায় ১৯১৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৯ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিল। যা মোট নমুনার ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ। এ সময়ে মারা যান ৩ জন। যার হার ৫ দশমিক ০৮ শতাংশ। গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৬২০টি নমুনা পরীক্ষায় ১৩ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিল। যার হার ২ দশমিক ০৯ শতাংশ। এ সময়ে ১ জনের মৃত্যু ছিল। মৃত্যুর হার ছিল ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

খুলনার সিভিল সার্জন মো. সুজাত আহমেদ জানান, খুলনায় সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু, সাধারণ জনগণ এর কোনোটিই আমলে নিচ্ছে না। তারা মাস্ক ব্যবহারে সচেতন নয়। মাস্ক পকেটে নিয়ে ঘুরছে। বাজার বা সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে নিজেরা সচেতন থাকছে না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জরিমানা করছেন। কিন্তু তাতেও জনগণের ঘুম ভাঙছে না। এর ফলে পরীক্ষা যত বাড়ানো হচ্ছে ততই পজিটিভ এর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।