জানা গেল কোথায় ‘পড়ছে’ সেই রকেটের ধ্বংসাবশেষ

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:০৩ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২১ | আপডেট: ৬:০৩:অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২১

চীনা বিজ্ঞানীদের নিয়ন্ত্রণ হারানো সেই মহাকাশ রকেটের পতনশীল টুকরো ইতালিতে আছড়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জন্য দেশটির অন্তত ৯টি অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে জরুরি বৈঠকও করছে ইতালি প্রশাসন।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, আগামীকাল ৯ মে স্থানীয় সময় রাত ২টা ২৪ মিনিট থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে রকেটটি আছড়ে পড়তে পারে। দেশটির প্রশাসন ওই সময়ের জন্য সবাইকে ঘরের ভেতর নিরাপদে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।

টিজিকম২৪ নামের স্থানীয় একটি ওয়েববাইট জানিয়েছে, চীনা রকেটের ধ্বংসাবশেষ যদি ইতালিতে আছড়ে পড়ে সেক্ষেত্রে দেশটির অন্তত ৯টি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অঞ্চলগুলো হলো- আব্রুজ্জো, মোলিস, ক্যাম্পানিয়া, আম্বরিয়া, লাজিও, বেসিলিকাটা, সার্ডিনিয়া, পুগলিয়া, ক্যালাব্রিয়া ও সিসিলি।

খবরে বলা হয়েছে, উল্লিখিত এলাকাগুলোতে নাগরিক সুরক্ষায় জরুরি সতর্ক বার্তা জারি করা হয়েছে। দেশটির বিশেষজ্ঞরা ওই সব এলাকার লোকজনকে ঘরের ভেতর থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টার কার্যালয়ের সদস্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিনিধি, প্রতিরক্ষা বিভাগ, বিমানবাহিনী, দমকল বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিদের নিয়ে কর্তৃপক্ষের একত্রে বৈঠক করার কথা।

এদিকে, নাগরিকদের সুরক্ষার নির্দেশে ইতালির সিভিল প্রটেকশন বলেছে, অ্যালুমিনিয়ামের মিশ্রণে তৈরি রকেটের বাইরের অংশের পাতলা অংশ সহজেই বায়ুমণ্ডলে পুড়ে যেতে পারে। ফলে এটি মানুষের জন্য খুব একটা ঝুঁকির কারণে হবে না। তবে সতর্কতা হিসেবে ওই সময় ঘরে বসে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দরজা ও জানালার কাছে না যাওয়া এবং জনবহুল এলাকা এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চীনা মহাকাশ স্টেশনে স্থাপনের জন্য ‘লং মার্চ ৫বি রকেট’টি গত ২৯ এপ্রিল উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেটটিকে সফলভাবে তিয়ানহে স্পেস স্টেশনের মডিউলকে কক্ষপথে স্থাপন করা গেলেও পরে সেটির ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারায় গ্রাউন্ড স্টেশন। এটি এখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘুরে চলেছে। তবে, এর ভিতরের ১০০ ফুট লম্বা (৩০ মিটার) একটি অংশ রকেট থেকে আলাদা হয়ে ক্রমশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ছে।

এরোস্পেস কর্পোরেশন জানায়, রকেটের ধ্বংসস্তূপটি পূর্বদিকের মার্কিন শহরগুলো পেরিয়ে নিরক্ষীয় অঞ্চলের কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

শুক্রবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, রকেটের উপরের স্তরটির বেশিরভাগ অংশ পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার সময় (রি-এন্ট্রি) জ্বলে যাবে, ফলে মাটিতে থাকা লোকজন ও সম্পদের তেমন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

চীনা কর্তৃপক্ষ ‘সময় মতো’ রকেটের রি-এন্ট্রির তথ্য প্রকাশ করবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব জেন সাকি জানিয়েছেন, মহাশূন্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে গিয়ে ধ্বংসাবশেষের ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অন্যান্য আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের সঙ্গে দেশটি তার ‘নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল আচরণের’ জায়গা থেকে আগ্রহী।

বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী অস্টিন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যারা স্পেস ডোমেনে কাজ করে তাদের কিছু আবশ্যিক শর্ত থাকা উচিত। স্পেসে যেকোনো কিছু করার ক্ষেত্রে শর্ত হওয়া উচিত নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় বিবেচনা করা। পরিকল্পনা করার সময় ও অপারেশন পরিচালনার সময় এটা নিশ্চিত করা জরুরি যে, আমরা এই ধরনের বিষয়গুলোকে বিবেচনায় আনছি কি না।’

চীনা পিপলস ডেইলি প্রকাশিত চীনা ট্যাবলয়েড দ্য গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রকেটটি পুরোপুরিভাবে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ আছে। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে যে, এখনো আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।