জাবিতে পরীক্ষার খাতা কিনতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়!

প্রকাশিত: ১০:১০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ১০:১০:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৯

জাবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) গণিত বিভাগের ৪৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ‘টিউটোরিয়াল পরীক্ষার খাতা কেনার জন্য’ ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে রশিদ ছাড়াই ৭৯ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা আদায় করেছে বিভাগটি। এর মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী মাইগ্রেশনের মাধ্যমে অন্য বিভাগে চলে গেছেন। যদিও দ্রুতই শিক্ষার্থীদেরকে টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিন।

জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গণিত বিভাগের ৪৮ তম আবর্তনের এক শিক্ষার্থী তাদের কাছ থেকে সভাপতি ফান্ড/ উন্নয়ন ফান্ড নামে ১০০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে বলে ফেসবুক গ্রুপে উল্লেখ করলে তা জনসম্মুখে আসে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এবিষয়ে বুধবার সকালে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিনের সাথে দেখা করে এর প্রতিবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তখন সভাপতি টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তাদের জানান।

শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ভর্তির সময় বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদেরকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। তখন শিক্ষার্থীদের অনেকেই নির্ধারিত টাকা জমা দেন। তবে যারা সে সময় টাকা দেননি এবং যারা পরবর্তীতে অন্য বিভাগ থেকে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে গণিত বিভাগে এসেছেন সেসব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যাচটির ক্লাস প্রতিনিধি আমিনুলকে সম্প্রতি টাকা তুলতে বলেন গণিত বিভাগের কর্মচারী জাকারিয়া। এরপর আমিনুল ওই কর্মচারীর কথা মতো টাকা তোলা শুরু করেন।

যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে তাদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়ে জাকারিয়া বলেন, ক্লাস শুরুর পূর্বে তাদেরকে ১০০০ টাকা করে দিতে বলা হয়। আর যারা দেয়নি তাদের কাছ থেকে টাকা তোলার জন্য সভাপতি স্যারের নির্দেশে আমি সিআরকে (ক্লাস প্রতিনিধি) বলি। টিউটোরিয়াল খাতা কিনতে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এবার একসাথে ৫ বছরের টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে টাকা আদায় সম্পর্কিত কিংবা টাকা কোন খাতে ব্যয় করা সে বিষয়ে টাকা আদায়ের পূর্বে কোন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

এ বিষয়ে গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, টিউটোরিয়াল খাতা কেনার জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে এখন ওরা (কর্মচারীরা) ভুল করে ১০০০ টাকা করে নিয়েছে। আমি বিষয়টি জানতাম না। যখন জানতে পেরেছি যে ১ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে তখন আমি দ্রুত টাকা ফিরিয়ে দিতে বলেছি। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য একটি বিভাগের সভাপতি জানান, তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া উন্নয়ন ফি’র টাকা থেকে টিউটোরিয়াল পরীক্ষার খাতা কেনার ব্যয় নির্বাহ করেন।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তারা আমাদেরকে কিছু জানায়নি। তবে তারা যেহেতু উন্নয়ন ফি নিয়েছে তারপরও বাড়তি টাকা নেয়া কতটুকু যৌক্তিক তা বিভাগই ভালো বলতে পারবে।