জালিয়াতি করে প্রধান শিক্ষকের পদে ৭৫ জন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮ | আপডেট: ৪:৪৯:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৮
ফাইল ছবি

টিবিটি সারাদেশ: জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিধি বহির্ভূতভাবে ৭৫ জনকে প্রধান শিক্ষক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হওয়ার পরও, অভিযুক্তরা স্বপদে বহাল রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যশোরে জেলায় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত ৭৫ জন  প্রধান শিক্ষকের মধ্যে তিনজন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পদোন্নতির কাগজপত্র জালিয়াতি করে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন। যা তদন্তেও প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও তারা স্বপদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।

অন্যরা জালিয়াতি করেছেন সনদ নিয়ে। তিনটি পরীক্ষার মধ্যে দু’টিতে তৃতীয় বিভাগ থাকার পরও প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অথচ সরকারি বিধি অনুযায়ী একটির বেশি তৃতীয় বিভাগ থাকলে তিনি কোনোভাবেই প্রধান শিক্ষক হতে পারবেন না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-১ অধিশাখা সারাদেশে ৭ জনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেয়। যার স্মারক নম্বর ৩৮.০০৭.০০.০০.০০২.২০১৫-২৪৪৮। ওই পত্রে উপসচিব নুজহাত ইয়াসমিনের স্বাক্ষর ছিল।

ওই সময় যাদেরকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল তারা হচ্ছেন- শরীয়তপুরের গোসাইরহাটি উপজেলার লক্ষীপুর ঢালীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাসুদা পারভীন, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বধূরডাঙ্গা শিবপুর সোনার বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্রজেন্দ্র নাথ সরকার, কালিগঞ্জ উপজেলার বারদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রহিমা পারভীন, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দক্ষিণ কলতা প্যাদাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রেজাউল করিম, ঝালকাটি সদর উপজেলার শাখাগাছি পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমিরন বড়াল, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ২০ নং হামিদপুর নিম্ন মাধ্যমিক সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শামসুল আলম ও ভোলার চরফ্যাশনের ৫৬ নং পূর্ব মাদ্রাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আলমগীর হোসেন।

উল্লেখিত স্মারকের পত্রটি ঘষামাজা করে যশোরের শক্তিশালী জালিয়াত চক্রটি তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ১০ জনের পদোন্নতি হয়েছে বলে জানায়। যে তিনজনকে জালিয়াতি করে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা হচ্ছেন- কেশবপুরের রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নার্গিস পারভীন, গৃধরনগর শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতুন ও নেহালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমএম মশিউর রহমান। এই তিনজনের নাম জালিয়াতি করা পত্রের ৬,৭ ও ৮ নম্বর সিরিয়ালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, কেশবপুরের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিরাজুল আশরেকিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে এই তিনজনকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেন।