জিজ্ঞাসাবাদের তিনটি ধাপ একই রকম ছিল না, প্রথাম ধাপটা ছিল ভয়ংকর: শহিদুল আলম

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৪০:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮
সংগৃহীত

খ্যাতনামা চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলম তার কারাবন্দি অবস্থায় কতৃপক্ষের ভয়ংকর নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জেল থেকে বের হওয়ার পর মুখ বন্ধ রাখতেও বলেছিল তারা।

সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শহিদুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতন করে। আমাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। এরপর ১০০ দিন কারাবন্দি ছিলাম। তবে তিনটি ধাপ একই রকম ছিল না। প্রথাম ধাপটা ছিল ভয়ংকর। আমার মনে হচ্ছিল আরো খারাপ কিছু হতে পারে।

দ্বিতীয় দফায় তারা আমার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে এবং আমাকে দিয়ে তারা যা চাইছে তা বলানোর চেষ্টা করে। যা তারা পারেনি।

তৃতীয় ধাপটা ছিল দীর্ঘ, যখন আমি জেলে ছিলাম প্রথমে ভয় দেখাতো যখন কাজ হয়নি তখন তারা আমাকে বলেছিল যদি আমি বের হওয়ার পর মুখ বন্ধ রাখি তাহলে আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ তুলে নিয়ে মুক্তি দিবে।

কিন্তু সেই কৌশলও যখন কাজ করল না, তখন আমাকে রিমান্ডে নেয়া হলো। এসময় আমতে অপরাধী প্রমান করতে নানা ধরনের তথ্য জানতে চাইলো। শেষ পর্যায়ে এসে তারা আমাকে বললো ক্ষমা চাইতে। যদিও এর মধ্যে কোনটাতেই সফল হয়নি। এরমধ্যে দেশের ভেতর ও বাহির থেকে প্রচন্ড চাপ আসছিল।
Add Image
আমার মনে হয় তখনই তারা বুঝতে পেরেছে, তারা ভুল করেছে।

প্রসঙ্গত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকার দেন। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন। পরদিন ৫ আগস্ট শহিদুল আলমকে তার বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ।

৬ আগস্ট তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।