জিনের আসর! ঘর থেকে নিখোঁজ ১০ দিনের লাশ ডোবায়

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৩১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

ঘর থেকে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বাড়ির পেছনে ডোবা থেকে উদ্ধার হলো ১০ দিনের একটি কন্যাশিশুর লাশ। এ ঘটনায় বাড়িতে জিনের আসর আছে বলে দাবি করেছে নিকটাত্মীরা।

বুধবার সকালে মাগুরার সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সারা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শিশুটির বাবা মাগুরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ফারুক হোসেন মোল্যা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার স্ত্রী নার্গিস কন্যাশিশুটিকে বিছানায় ঘুম পাড়িয়ে পাশের কক্ষে তার বড় ছেলেটিকে খাবার দিতে যান। কয়েক মুহূর্ত পরই ফিরে এসে শিশুটিকে বিছানায় না দেখে বাড়ির অপর কক্ষে খোঁজ নিতে যান।

তিনি জানান, সেখানে তার ছোট ভাই রহমতের স্ত্রী এবং সন্তান বসবাস করেন। কিন্তু তারা কিছু জানে না জানালে দিশেহারা হয়ে পড়েন নার্সিস। রাতেই বাড়ির আশপাশে সবখানে খোঁজাখুঁজি চলে। কিন্তু কোথায় না পেয়ে নিজে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এ ঘটনার পর পুলিশও নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে।

এদিকে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে ডোবার পানিতে ভেসে থাকতে দেখে এলাকাবাসী শিশুটিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ দুপুরে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

শিশুটির বাবা ফারুক হোসেন বলেন, ১৩ বছর আগে তার প্রথম সন্তানটির জন্ম। কিন্তু দ্বিতীয় সন্তানটি অনেক চেষ্টার ফসল। আমি গরিব মানুষ। কারো সঙ্গেই আমার কোনো শত্রুতা নেই। তারপরও আদরের মেয়েটির এমন মৃত্যুর কারণ বুঝতে পারছি না।

তবে একই বাড়িতে বসবাসরত ফারুকের ছোট ভাই রহমত মোল্যা বলেন, বাড়িতে জিনের আসর আছে। প্রায়ই রাতের বেলা ঘরের চালের ওপর অস্বাভাবিক শব্দ পাওয়া গেলেও তার উৎস্য পাওয়া যায় না। নামকরা এক হুজুর বলেছেন জিনের কারণেই এসব হচ্ছে।

সদর থানার এসআই বিশ্বজিত বলেন, মাত্র ১০ দিনের ঘুমন্ত একটি শিশুর ঘর থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং পরদিন ডোবায় মৃত অবস্থায় দেখতে পাওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যাবে।