জিপির ওপর আরও বিধিনিষেধ

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০ | আপডেট: ৭:১৯:অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

গ্রাহকসংখ্যায় দেশের শীর্ষ মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনকে ‘সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার’ বা এসএমপি ঘোষণার এক বছরের মাথায় নতুন দুটি বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি।

প্রথম নির্দেশনায় গ্রামীণফোনের নতুন সেবা, প্যাকেজ বা অফার চালু করা কঠিন করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় নির্দেশনায় নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলানোর ক্ষেত্রে গ্রাহকের গ্রামীণফোন ছাড়ার সুযোগ সহজ করা হয়েছে।

বিটিআরসি বলছে, টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় ‘একক আধিপত্য তৈরির অবস্থা’ যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে ‘গ্রাহকের স্বার্থে’ এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গ্রামীণফোন বলেছে, বিটিআরসির এসব নতুন নির্দেশনাই বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং গ্রাহক স্বার্থের পরিপন্থি।

এবার আরও একটি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে জিপি বিরুদ্ধে। নতুন বিধিনিষেধে কল টারমিনেটিং অপারেটর হিসেবে জিপির পাওনা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে তিনটি বিধিনিষেধ দেয়া হলো।

বিটিআরসি রোববার এই বিধিনিষেধের নির্দেশনা দিয়ে অপারেটরটিকে চিঠি দিয়েছে।

এতে অরিজিনেটিং অপারেটর হতে প্রতি মিনিটে ১০ পয়সার পরিবর্তে ৭ পয়সা করে পাবে গ্রামীণফোন।

ধরা যাক, একজন গ্রাহক রবি হতে জিপিতে কল করছেন তাহলে রবি অরিজিনেটিং অপারেটর আর জিপি টারমিনেটিং অপারেটর। সাধারণ নিয়মে অরিজিনেটিং অপারেটর হতে প্রতি মিনিটে ১০ পয়সা করে পেয়ে থাকে টারমিনেটিং অপারেটর।

এসএমপির এই বিধিনিষেধের কারণে জিপি যখন অরিজিনেটিং অপারেটর হবে তখন টারমিনেটিং অপারেটর রবি, বাংলালিংক ও টেলিটককে ১০ পয়সা করে দিলেও  টারমিনেটিং অপারেটর হিসেবে জিপিকে ৩ পয়সা করে কম দেবে ওই তিন অপারেটর।

আর ৩ পয়সা প্রতি অপারেটর আলাদা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা করবে। পরবর্তীতে বিটিআরসির নির্দেশনা অনুযায়ী এই অর্থ খরচ বা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এর আগে গত রোববার গ্রামীণফোনকে দুটি বিধিনিষেধ দিয়েছিল নিয়ন্ত্রণ সংস্থা। সেখানে এমএনপি লকিং পিরিয়ড কমিয়ে দেয়া এবং  সকল সেবা ও অফার চালুতে অবহিতকরণ সুবিধা কেড়ে নিয়ে অনুমোদন নেয়ার অপেক্ষা বাড়ানোসহ বাধ্যবাধকতা দেয়া ।

এরমধ্যে অবশ্য এসব বিধিনিষেধের প্রক্রিয়া নিয়ে হাইকোর্টে রিট করে করেছে গ্রামীণফোন। রোববার এই রিট আবেদন করে তারা।

১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৫ মাস পেরিয়ে ২০২০ সালের জুনে এ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কার্যকরের এই পদক্ষেপ।

টেলিকম খাতের জন্য বিটিআরসি যে এসএমপি নীতিমালা তৈরি করেছে সেখানে কোনো অপারেটরের কার্যকর গ্রাহক বা আয় বাজারের ৪০ শতাংশ হলে তাকে এসএমপি ঘোষণা কর যাবে। সেই ফর্মুলায় জিপিকে এসএমপি ঘোষণা করা হয়।

২০২০ সালের মে মাসে অপর তিন অপারেটর রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক বিটিআরসির কাছে চিঠি দিয়ে গ্রামীণফোনের ‍উপর এসএমপির বিধিনিষেধ আরোপের অনুরোধ করে।

চিঠিতে তারা গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে সামাজিক দায়বদ্ধতার নামে বাজার নষ্ট করার অভিযোগ আনে।

তিন অপারেটর প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে দেয়া ওই চিঠিতে তারা বলছেন,

এসএমপি ঘোষিত অপারেটর যেভাবে বাজার দখলের জন্য দেশের টেলিটকম খাতকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে তা এ খাতটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।