জীবননগরে সাংবাদিক হামলার ঘটনায় এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ

প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২১ | আপডেট: ৭:২৫:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৫, ২০২১

মামুন মোল্লা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পৌর কাউন্সিলর খোকনের গুন্ডা বাহিনীর হাতে সাংবাদিক মামুন মোল্লা সহ আরো ৮ জন ব্যক্তি হামলার শিকার হয়। এমন সংবাদ প্রচার হওয়ার পরও পুলিশ কোন মামলা নেয়নি।

গত ৯ই এপ্রিল (শুক্রবার) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ইসলামপুর মসজিদে কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুটি দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়। এসময় গোরস্থান কমিটি গঠনের সময় মাদকে আসক্ত পাশ্ববর্তী নায়ারণপুর গ্রামের মিনজুল এর ছেলে উজ্জ্বল কে কাউন্সিলর খোকন সেক্রেটারী পদ দেওয়ার আহবান জানান এবং এময় খোকনের সমর্থিত লোকজন উজ্জ্বল কে সমর্থন দেয়।

পরক্ষণে খোকন তা নাকচ করে উজ্জ্বল কে ক্যাশিয়ার ও সহ সভাপতির দায়িত্ব দিতে চান। এসময় উজ্জ্বল বলে আমিতো টাকা মেরে খেয়ে নেব আমি ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব নেব না। আমাকে সহ সভাপতির দায়িত্ব দেন। তখন ইসলামপুর গ্রামের আলামিন প্রস্তাব করেন আমাদের সমাজে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে কমিটি দায়িত্ব দেওয়া দরকার। মাদকে আসক্ত এমন কাউকে কমটিতে না আনলে ভালো হয়। একথা বলার পর গ্রামের আহসান আলীর ছেলে আলামিনের (২০) ওপর হামলা করে কাউন্সিলর খোকনের পালিত গুন্ডা কাওসার ও তার দলবল । এঘটনায় মারাত্মক আহত হয় আলামিন।

মসজিদের বারান্দার অপর পাশে বসে থাকা অবস্থায় ছিলো সাংবাদিক মামুন মোল্লা। এসময় পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তার ওপরে ও এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। এসময় সে মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় মাথায় ও ডান হাতে জখম হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ মর্তুজা আহসান এবং সেকমো ( এস ও সিএম) ডাঃ- আতাউর রহমান তাদেরকে চিকিৎসা প্রদান করেন। এবং তাদের নাম পুলিশ কেস নথিতে অন্তর্ভুক্ত করেন।

হাসপাতালের দৈনিক রোগী ট্রিটমেন্ট তালিকা অনুসন্ধান করে জানা গেছে, ঘটনার ওইদিন রাতে মামুন মোল্লা সহ ৮ আটজন হমলার শিকার হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এবং সাংবাদিক মামুন মোল্লা ও তার নিকট আত্মীয়দের বাড়ির গেট ও ইটের প্রাচীর ভেঙ্গে ভাংচুর চালিয়েছে দূবৃর্ত্তরা। এরকম লোমহর্ষক ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে মামলা না নিয়ে নানা রকম টালবাহানা করে পুলিশ। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে রাজনৈতিক নেতারা।

এ ঘটনার পর ১১ই এপ্রিল (রবিবার) বিকেলে ফ্রি অ্যাম বাল্ব ফ্যাক্টরীর সামনে আলামিনের সাথে কথা কাটাকাটি হয় খলিলের ছেলে সামিউলের (২০)। সামিউল ও আলামিন মারামারিতে লিপ্ত হয়। গিটসহ একটি বাশের গোড়া টানাটানি করতে থাকে এসময় সাংবাদিক মামুন মোল্লা প্রয়োজনীয় কাজে মোটরসাইকেল যোগে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হচ্ছিলো। তিনি দেখতে পান আঃ সাত্তার, লিখন, রানা, তবিবুর ও আইনাল তাদেরকে শান্ত করেন।

আর এঘটনায় অদৃশ্য কারণবশতঃ সঙ্গে সঙ্গে মামলা নেয় পুলিশ। আসামী করা হয় সাংবাদিক মামুন মোল্লা সহ , পৌর আওয়ামীলীগের সহ- সভাপতি সুরুজ সরকার, আইকন কোচিং-এর শিক্ষক রাসেল রানা ও মোঃ সুরুজের ছেলে শাহীনকে কৌশলে চক্রান্ত করে জীবননগর থানায় মামলা।

পুলিশ এসময় দ্রুত গ্রেফতার কার্যক্রম শুরু করে শিক্ষক রাসেল রানাকে আটক করে জেল হাজেতে পাঠিয়ে দেয়। সাংবাদিক মামুন মোল্লাকে চক্রান্ত করে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয় অদৃশ্য ক্ষমতার বলে। এঘটনায় বুঝা যায় পুলিশ ৯ এপ্রিল রাতে কেন মামলা নেয়নি।

দুইদিন পর ১১ এপ্রিল (রবিবার) মামুন মোল্লাকে দ্বিতীয় আসামী করে মামলার এজহার করে পুলিশ। কি কৌশলে তারা মামুন মোল্লাকে ফাসানোর চেষ্টা করছে তা এখন স্পষ্ট। পুলিশের এমন আচরণে ক্ষুদ্ধ সাংবাদিক ও সচেতন মহলের মানুষেরা।

এবিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চান জেলার বিভিন্ন মিডিয়ার গনমাধ্যম কর্মীরা । ফোন করে জানার চেষ্টা করেন কেন মামুন মোল্লার পক্ষ থেকে মামলা এজহারভুক্ত করা হলো না। উল্টো তার বিরুদ্ধে কেন মামলা হলো। তবে তিনি বিভিন্ন কথা বলে এড়িয়ে গেছেন।

জীবননগর পৌর সভার সাবেক ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ আতিয়ার রহমান জানান সাংবাদিক মামুন মোল্লাকে পূর্ববর্তী আক্রোশ ও রাগের বশবর্তী হয়ে কিছু মানুষের স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা মামলা করেছেন। তবে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা অনাকাঙ্খিত একটি বিষয়।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ্যাড. মানিক আকবর ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ডালিম কে অবহিত করা হলে তারা সাংবাদিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস প্রদান করেন।