জুনিয়রের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দাঁত হারালেন ছাত্রী

প্রকাশিত: 11:17 AM, November 15, 2019 | আপডেট: 11:17:AM, November 15, 2019
হাসপাতালে আহত ছাত্রী খাদিজা। ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তারের (১৯) ওপর হামলা চালিয়ে পাঁচটি দাঁত ভেঙে দিয়েছে এক বখাটে তরুণ। উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ইটের আঘাতে খাদিজা আক্তার নামের ওই কলেজ শিক্ষার্থীর পাঁচটি দাঁত ভেঙে দেয় বখাটে আজমির উল্লাহ অমিত।

বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিকালে এই ঘটনা ঘটে। আহত ছাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় খাদিজা আক্তারের বাবা আবুল কালাম ঢালী বাদী হয়ে পালং থানায় একটি মামলা করেছেন।

শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সহপাঠী ও সদরের পালং মডেল থানা সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চর কোয়ারপুর গ্রামের আবুল কালাম ঢালীর মেয়ে খাদিজা আক্তার সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আজমির উল্লাহ অমিত পৌরসভার তুলাসার এলাকার শাহ আলম খানের ছেলে।

গেল কয়েক মাস ধরে অমিত খাদিজাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। দিন দিন অমিতের বখাটেপনা বাড়তে থাকে। ছাত্রী সহপাঠীদের বিষয়টি জানায় এবং তাদের মাধ্যমে অমিতকে সতর্ক করে। গেলে বুধবার ক্লাশ শেষে কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় খাদিজার পথরোধ করে অমিত। তখন তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। অমিত মেয়েটির ওপর চড়াও হয় একপর্যায়ে ইট দিয়ে ওই ছাত্রীর মুখে আঘাত করে। এতে ওই ছাত্রীর নিচের পাটির দুটি ও ওপরের পাটির তিনটি দাঁত ভেঙে যায়। সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে দন্ত বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খাদিজাকে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, দাঁত ভাঙা নিয়ে খাদিজা নামের এক কলেজ ছাত্রী ভর্তি হয়। তার ওপরের ও নিচের পাটির পাঁচটি দাঁত ভেঙে গেছে। এছাড়া চোয়ালে সে বেশ আঘাত পেয়েছে। তার মুখে অস্ত্রপচার প্রয়োজন।কিন্তু সদর হাসপাতালের দন্ত বিভাগে এ ধরনের সুবিধা নেই। তাই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত মেয়েটির বাবা আবুল কালাম ঢালী বলেন, আমি ওই বখাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

শরীয়তপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বলেন, ঘটনাটি জেনে তাৎক্ষণিক বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। শনিবার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক পরিষদের সভা ডাকা হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর থেকেই অমিত পালাতক রয়েছে। তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি।

পালং মডেল থানার পরিদর্শক মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বখাটের আঘাতে কলেজ ছাত্রীর দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে।