জুন-জুলাই পর্যন্ত ৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আসবে

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১ | আপডেট: ৫:৩০:অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১

সরকারিভাবে জুলাই পর্যন্ত করোনার ৪ কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বুধবার (০৩ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ডিপ্লয়মেন্ট ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। এসময় স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে দেশবাসী সকলে সন্তুষ্ট, সাংবাদিক ভাইয়েরা সন্তুষ্ট, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, আমার এখন পর্যন্ত ৩৩ লাখের বেশি লোককে ভ্যাকসিন দিতে সক্ষম হয়েছি। তাছাড়া ভ্যাকসিন নিতে রেজিস্ট্রেশন করেছে ৪৫ লাখের বেশি।

মন্ত্রী বলেন, যারা ভ্যাকসিন নিয়েছে ৩৩ লাখের অধিক তারা প্রত্যেকে সুস্থ আছে, কোথাও কোন অঘটন ঘটেনি।

তিনি বলেন, আমাদের স্কুল কলেজ খুলে দেওয়া হচ্ছে, তাই শিক্ষক-কর্মচারী, কিছু সংখ্যক ছাত্র যাদের হল খুলে দেওয়া হবে তাদেরও ভ্যাকসিন দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদেরও ভ্যাকসিন দিতে হবে। সেক্ষেত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে তালিকা দিলে সে অনুযায়ী ভ্যাকসিন দেব। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি যারা রয়েছে ওই মন্ত্রণালয় তালিকা দিলে তাদেরও ভ্যাকসিন দিতে হবে।

পাঁচতারকা হোটেলে কর্মরতদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাছাড়া সকল পোর্টে কর্মরতদের ভ্যাকসিন দিচ্ছি। আগামী জুন-জুলাই পর্যন্ত কর্মসূচি নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে। আমাদের যে অর্ডার আছে এবং কোভ্যাক্স যে ভ্যাকসিন দেবার কথা সেসব যদি ঠিকমত পাই তাহলে ৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমাদের হাতে থাকবে। এই ৪ কোটি ডোজ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাসে আসবে, এরমধ্যে যদি কোন পরিবর্তন লাগে সেটা করব। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ১৫ দিনের মধ্যে একদিন ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনা করব।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা এরইমধ্যে দেখেছেন কোভ্যাক্স থেকে ১ কোটি ৯ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, সেরাম থেকে ভ্যাকসিন আনার পাশাপাশি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের ভ্যাকসিন যদি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পায় সেগুলো নিয়েও আলোচনা করব।

তিনি বলেন, আমরা ভ্যাকসিন গ্রহণের বয়সসীমা ৪০ বছর নির্ধারণ করেছি, যদিও ভারতে ৬০ বা তার ঊর্ধ্বে লোকদের ভ্যাকসিন দিচ্ছে। আমাদের কাছে প্রস্তাব এসেছে বয়সসীমা কমিয়ে আনার আমরা সেটা নিয়েও পরিকল্পনা করছি। তবে আমাদের যে বয়সসীমা দেওয়া তাতে ৪ কোটি লোককে ভ্যাকসিন দিতে হবে। যদি বেশি ভ্যাকসিন আসে তাহলে বয়সের বিষয় চিন্তা করতে পারব। আমাদের টার্গেট দ্বিতীয় ডোজ যেন হাতে থাকে সেটা চিন্তা করেই কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সংস্থা সাড়ে ৩ মিলিয়ন টাকা ভ্যাকসিন কিনতে দিতে চায়। আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থটা বিবেচনা করব।

বেসরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিন আনা হলে সেটা কিভাবে প্রদান হবে জানতে চাইলে বলেন, সরকার যদি অনুমোদন দেয়। সেক্ষেত্রে কোন কোন কোম্পানি ভ্যাকসিন আনতে পারে সেটা তারা নিজ অর্থে ক্রয় করবে আর সেই ভ্যাকসিন যারা গ্রহণ করবে তাদেরও নিজ অর্থ ক্রয় করতে হবে। এখানে সরকারের কোন হাত নেই। তবে যে ভ্যাকসিনই আসুক সেটা ডব্লিউএইচও আমাদের ওষুধ প্রশাসনের অনুমোদন গাইড লাইন মেনে আনতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে ২ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে ভ্যাকসিনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছে ৪৫ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৩ জন। আর ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে ৩৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০৫ জন। তারমধ্যে পুরুষ ২১ লাখ ৫০ হাজার ৩৫৫ জন এবং নারী ১১ লাখ ৯১ হাজার ১৫০ জন।