জেলগেটে ঢুকেও রিমান্ডের আসামিদের না নিয়ে বেরিয়ে গেছেন র‌্যাব কর্মকর্তারা

প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০ | আপডেট: ৮:৪৯:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০
কক্সবাজার জেলা কারাগার।

সেনাবাহিনীর অবসরগ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার মামলার আসামি চার পুলিশ সদস্য এবং ওই ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষীকে ৭ দিনের রিমান্ডের জন্য র‌্যাব হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হয়নি। আজ (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে র‌্যাবের একটি টিম আসামিদের রিমান্ডে নিতে কক্সবাজার জেলা কারাগারে এলেও আধা ঘণ্টা অবস্থান করে কারাগার থেকে ফেরত যান। জেল সুপার জানিয়েছেন, র‌্যাব সদস্যরা এলেও আজ আসামি চাননি।

কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মোহাম্মদ মোকাম্মেল হোসেন জানান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় আটককৃত আসামিদের মধ্যে ৭ আসামিকে রিমান্ডে নিতে আজ বেলা ১১ টার দিকে র‌্যাবের একটি দল আসে। তবে তারা আসামি না নিয়েই জেলগেট থেকে ফেরত যান।

কী কারণে তারা ফেরত গেছেন সে ব্যাপারে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

কারাগারের একটি সূত্র জানিয়েছে, আসামিদের নিতে র‌্যাব সদস্যরা কারাগারে এলেও তাদের এক কর্মকর্তার মোবাইলে কল আসে। তিনি কল ধরে কথা বলেন অপর পাশে কারও সঙ্গে। ফোনে কথা শেষ করে অন্যদের সঙ্গে মৃদু আলোচনা করেন। এরপর পরে আসবেন বলে আসামি না নিয়েই চলে যান।

এ বিষয়ে র‌্যাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে গত ৬ আগস্ট বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ তিন আসামিকে ৭ দিন রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পাওয়ার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাদের কেন রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে না এবং সাতদিন পেরিয়ে যাওয়ায় আদালতে নতুন করে রিমান্ড আবেদন করতে হবে কিনা জানতে চাইলে মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলার বাদীর আইনজীবী অ্যাড. মাহবুবুল আলম টিপু বলেন, ‘না, নতুন করে কোনও আবেদন করতে হবে না। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ যেদিন থেকে আসামিদের রিমান্ডে নেবে সেদিন থেকে ক্ষণ গণনা শুরু হবে। আর কেন এখনও নেওয়া হয়নি এটা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের বিষয়। তারা যখন মনে করবেন তখন নেবেন। এ বিষয়ে আমার মন্তব্য নেই।’

আজ রিমান্ডে নেওয়ার কথা ছিল যাদের তারা হচ্ছেন কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া, পুলিশ দায়েরকৃত মামলার সাক্ষী মো. নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজ।

তবে এ মামলায় জেলগেটে চার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে কী জানা গেছে সে সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। শুধু র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসামিরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাই তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের দরকার। একই তথ্য আদালতে রিমান্ড আবেদনে জানালে বিচারক আসামিদের নতুন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সিনহা হত্যাকাণ্ডে ৫ আগস্ট ওসি প্রদীপসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের বোন। এ তাদেরকে যে কোনও সময় কারাগার হতে র‌্যাব হেফাজতে রিমান্ডে নেওয়া হবে।

গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৫ আগস্ট ওসি প্রদীপ ও দায়িত্বরত পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ জনকে আসামি করে সিনহার বোন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় ৬ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন টেকনাফ থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকতসহ ৭ পুলিশ সদস্য। এরপরেই তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয় ও ওসি প্রদীপ, লিয়াকতসহ ৩ জনের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। বাকি ৪ জনকে দুদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত। একইদিনে এ মামলায় অভিযুক্ত ৯ পুলিশ সদস্যকেই বরখাস্ত করা হয়।

ওই চার আসামিকে দুদিন ধরে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তের স্বার্থে আরও জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবারও তাদের রিমান্ড চাইলে আদালত প্রত্যেকের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। অন্যদিকে, পুলিশের মামলার তিন সাক্ষী তিন স্বাক্ষী মো. নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াজকেও তুলে এনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাইলে আদালত প্রত্যেকের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই ১০ জনই এখন কারাগারে রয়েছে।

একই ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় ৯ আগস্ট সিনহার সহযোগী শিপ্রা দেবনাথ ও ১০ আগস্ট সাহেদুল ইসলাম সিফাত জামিনে কারাগার থেকে মুক্তি পান।

-বাংলা ট্রিবিউন।