ঝালকাঠি টিটিসি’র ইনচার্জ স্বামী আর অধ্যক্ষ হলেন তারই স্ত্রী!

প্রকাশিত: ২:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ২:২১:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

ঝালকাঠি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সাদেকা সুলতানা ও একাডেমিক ইনচার্জ শাহিন বাদশা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রী মিলে টিটিসিকে পারিবারিক সম্পত্তি বলেই মনে করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন টিটিসিতে গিয়ে নানা অনিয়মের সত্যতাও পাওয়া যায়। ২ দিন পূর্বে একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে ৬ জন নারীকে সিলেট থেকে নিয়ে আসা হয় ট্রেনিংয়ের জন্য। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসলে দালাল চক্রকে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের জরিমানা করে।

দালালদের জরিমানা করার পরে এনডিসি মো. মো. বশির গাজী সাংবাদিকদের জানান, এ ঘটনায় টিটিসি অধ্যক্ষসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন জানাবেন।

এদিকে টিটিসিতে বিভিন্ন পর্যায় কর্মরত প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পাসে থাকা গাছ কেটে বিক্রি, প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, নিজ বাস ভবনের নীচ তলার গেস্টরুমে মহিলা হোস্টেল, ৩০ দিন মেয়াদি প্রশিক্ষণের ৩দিন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করিয়েই কোর্স সম্পন্ন করে সনদ প্রদান, থাকা-খাওয়া বাবদ টাকা রেখে তা ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ, সুবিধা নিয়ে টয়লেটের সামনে কেন্টিন দেয়ার সুযোগসহ বিবিধ অভিযোগ রয়েছে টিটিসির কর্তা দম্পতির বিরুদ্ধে। এছাড়া অধ্যক্ষ কর্তৃক ট্রেনিং কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে টিটিসি অধ্যক্ষ সাদেকা সুলতানা বলেন, ৩০ দিনের প্রশিক্ষণ ৩ দিন করিয়ে সনদ দেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। নিজের বাসার নিচ তলায় গেষ্টরুমে মহিলা হোষ্টেল বানানোর বিষয় তিনি বলেন, ঝালকাঠিতে পুরুষ-মহিলা একই হোষ্টেলে থাকার পরিবেশ নেই, তাই এটা আমি করেছি। বাথরুমে কেন্টিন করে ভাড়া দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের যাতে বাইরে যেতে না হয় সে জন্য এ ব্যবস্থা। অবৈধ ভর্তির ব্যাপারে তিনি বলেন, সোমবার আমি ছিলাম না। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।