ঝিকরগাছায় কোটি টাকা হাতিয়ে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের চম্পট!

প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১ | আপডেট: ৭:২৪:অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২১

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের ঝিকরগাছা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেবার অভিযোগ উঠেছে। কর্মরত অবস্থায় তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সরকারি জমি বন্দোবস্ত করে দেওয়া ও ইজারা গ্রহন, চাকরি দেওয়া এবং ধার বাবদ এসব টাকা নিয়েছেন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচিল গ্রামের আব্দুস সালাম সরদারের ছেলে। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিক অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলার মাটশিয়া গ্রামের লুৎফর রহমান অভিযোগ করেন, সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম দেড় বছর আগে তাদের এলাকার ১৫০ জনের কাছ থেকে সরকারি জমির ইজারা বাবদ দুই লাখ টাকা নেন। ১৫ দিন পরে টাকার রশিদ দেবেন বলে জানালেও তা শেষ পর্যন্ত দেননি।

উপজেলার বিষহরি গ্রামের নজরুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, এক বছর আগে তার কাছ থেকে তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা ধার নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না।

জেলার মণিরামপুর উপজেলার কামালপুর গ্রামের শাহাবুদ্দীনের অনার্স পড়ুয়া ছেলে আবু রায়হান অভিযোগ করেছেন, ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের চাকরি দেওয়ার কথা বলে বছর খানেক আগে পাঁচ লাখ টাকা নেন। তারপর থেকে নানা টালবাহানা করছেন। এখন আর মোবাইল রিসিভ করেন না।

একই উপজেলার তেঁতলিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে রাব্বিল হাসানের অভিযোগ, তাকে ঝিকরগাছা ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি দেওয়ার কথা এক বছর আগে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে তাকে দিয়ে কয়েকদিন অফিসের কম্পিউটারের কাজও করিয়েছেন।

খােঁজ নিয়ে জানা যায়, মণিরামপুর উপজেলার খাঁনপুর গ্রামের হালিমুর রহমানের ছেলে শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দেড় বছর আগে ছয় লাখ টাকা নিয়েছেন শহিদুল ইসলাম। তার অফিসে আমিন সহকারী (চেইন ম্যান) হিসেবে চাকরির কথা বলে এ টাকা নেওয়া হয়েছিল। বেশ কিছুদিন ধরে শহিদুল ইসলাম অফিসে আসছেন না। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রেখেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা ভূমি অফিসের একজন জানান, লোকজনের কাছ থেকে তিনি কোটি টাকার উপরে নিয়েছেন। সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম সরকারি জমি বন্দোবস্ত দেওয়া ও ইজারা গ্রহন এবং চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া অস্বীকার করেন। তবে ধার বাবদ নেয়া টাকা সময় মতো দিয়ে দিবেন বলে দম্ভোক্তি করেন।

এ বিষয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী নাজিব হাসান বলেন, শহিদুল ইসলাম বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে অনেক টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশকিছু দিন ধরে তিনি অফিসে আসছেন না। শহিদুল এক মাসের মেডিকেল ছুটির আবেদন করেছিলেন কিন্তু তা মঞ্জুর করা হয়নি। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত রহমান বলেন, শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বেশকিছু আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। তবে চাকরি পেতে টাকা দেওয়াটাও এক ধরনের অপরাধ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে শহিদুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সার্বিক বিষয় নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।